চোখে-মুখে রক্তের ছিটেয় ভাঙলো ঘুম! তাকিয়ে দেখল, বাবার ঘাড়ে একের পর এক কোপ বসাচ্ছে মা

বিহারের পূর্ণিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিজের স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক মহিলা। অভিযোগ, পারিবারিক বিবাদ ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন। ঘটনার সময় তাঁদের ১২ বছরের নাবালক পুত্রটি পাশেই ঘুমিয়ে ছিল, যা এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বালু দাস (৪৫) কর্মসূত্রে পাঞ্জাবে শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী উষা দেবী এবং তিন সন্তান বিহারের বাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি বালু দাস গ্রামে ফিরে জানতে পারেন যে তাঁর স্ত্রী তাঁকে না জানিয়েই পারিবারিক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, বালু দাসের অনুপস্থিতিতে উষা দেবী গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। প্রেমিকের পরামর্শেই তিনি জমি বিক্রি করে তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বামীর হঠাৎ ফিরে আসায় তাঁদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষোভ থেকেই উষা দেবী স্বামীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ জানায়, এক বৃষ্টিভেজা রাতে বালু দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তাঁদের ১২ বছরের ছেলে শৈলেন্দ্র ঘুমিয়ে ছিল। এক পর্যায়ে ঘুম ভাঙলে সে নৃশংস দৃশ্যটি দেখে ফেলে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পরদিন সকালে সে পিসির বাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনা জানায়। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উষা দেবীকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা পূর্ণিয়াজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।