মাঝ রাতে রেলের উচ্ছেদ অভিযান, রুজি-রুটি হারিয়ে পথে বসলেন ব্যবসায়ীরা

ব্যান্ডেল স্টেশন চত্বরে রেলের জমিতে থাকা সমস্ত বেআইনি দোকানপাট রাতের অন্ধকারে গুঁড়িয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। বিপুল সংখ্যক আরপিএফের উপস্থিতিতে জেসিবি চালিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ দশ বছর ধরে এই দোকানগুলিতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলি রাতারাতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
‘অমৃত ভারত প্রকল্প’-এর অধীনে ব্যান্ডেল স্টেশনকে আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্যই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর। এর আগে রেলের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও, স্থানীয় বিধায়ক ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং জোর করে উচ্ছেদ করলে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে দেখা গেল বিনা বাধায় এই অভিযান সম্পন্ন হলো।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের আক্ষেপ:
উচ্ছেদ হওয়া দোকানদাররা জানান, তাঁরা রেলকে নিয়মিত ভাড়া দিতেন এবং বিদ্যুৎ বিলও জমা দিতেন। করোনার পর থেকে সবকিছু বন্ধ ছিল। রাত বারোটার পর জেসিবি দিয়ে তাঁদের দোকান ভাঙা শুরু হয়। তাঁরা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই দোকান চালিয়েই আমাদের সংসার চলত। যারা দোকানে কাজ করত তাদেরও পরিবার চলত। এখন কী হবে আমরা জানি না।” রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
বিধায়কের ক্ষোভ ও আন্দোলনের ইঙ্গিত:
পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না – এই দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলন করেছিল। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাতের অন্ধকারে চোরের মতো কাজ করেছে রেল। মানুষ বুঝুক কতটা অমানবিক দেশের কেন্দ্রীয় সরকার।” তিনি আরও জানান, দলের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আন্দোলনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ:
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ বিধায়কের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “বিধায়ক ভালোভাবেই জানতেন তাঁরা যেটা করছেন সেটা বেআইনি। তাই রাতে যখন উচ্ছেদ হচ্ছে তখন তৃণমূল নেতাদের দেখা পাওয়া যায়নি। দু’দিন ধরে ঝাঁটা হাতে নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। শুধুই ভোটের রাজনীতির জন্য।”
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যান্ডেলে আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একদিকে জীবিকা হারানো মানুষের হাহাকার, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ – সব মিলিয়ে পরিস্থিতি থমথমে। এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।