শমীক ভট্টাচার্যের উত্তরবঙ্গ মিশন শুরু, আদি-নব্য মেলবন্ধনে বিজেপি, নজর ‘২৬-এর ভোটে

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গ বিজেপির নবনির্বাচিত সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি উত্তরবঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ঝালিয়ে নিতে তিনদিনের সফরে যাচ্ছেন। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গ সফর, যেখানে তিনি জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।
রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর এটিই শমীক ভট্টাচার্যের প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। আগামীকাল তিনি আলিপুরদুয়ারে পৌঁছবেন এবং সেখানকার বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করবেন। এরপর বুধবার পর্যন্ত তিনি উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার নেতৃত্বদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, এই সফরে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় শমীকের কোনো কর্মসূচি নেই, যদিও এর কারণ নিয়ে বিজেপির তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাঁর প্রাথমিক বার্তায় ‘নতুন আর পুরনো’ কর্মীদের মেলবন্ধনে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর এই বার্তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এই বৈঠকগুলি আয়োজিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত পুরনো নেতা-কর্মীকে বৈঠকে উপস্থিত রাখতে এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে। এর মাধ্যমে দল চাইছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সমস্ত পুরনো কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব উপলব্ধি করেছে যে, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করতে হলে শুধুমাত্র দক্ষিণবঙ্গে আসন বাড়ালেই হবে না, বরং উত্তরবঙ্গের নিজেদের শক্তিশালী দুর্গগুলিও ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই নির্বাচন, তাই শমীক ভট্টাচার্য উত্তরবঙ্গে বিজেপির পুরনো কর্মীদের ফের সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছেন।
তবে, শমীক ভট্টাচার্যের এই উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, “বিজেপিতে আদি ও নব্যদের মধ্যে ভয়ঙ্কর সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বিজেপির আদি নেতাদের একজোট করছেন শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষ।” কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে উস্কে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শমীক ভট্টাচার্যের এই সফর উত্তরবঙ্গে বিজেপির রণনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।