‘লাল বলের ক্রিকেট ভালোবাসি’, ৩৭-এও টেস্টে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন অজিঙ্কা রাহানে

দু’বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলা শেষ টেস্ট ম্যাচের পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ায় এবং ভারতীয় দলে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ঢেউয়ে তাঁর মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের জন্য দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও, ৩৭ বছর বয়সী অজিঙ্কা রাহানে এখনও ভারতীয় টেস্ট স্কোয়াডে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখেন। তাঁর চোখেমুখে সেই আকাঙ্ক্ষা আজও স্পষ্ট।

ভারত-ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে লর্ডসে উপস্থিত ছিলেন ‘জিঙ্কস’ নাম পরিচিত এই ভারতীয় ক্রিকেটার। সেখানেই স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জাতীয় দলে ফেরার জন্য তিনি পুরোদমে নিজেকে অনুশীলনে ডুবিয়ে রেখেছেন। রাহানে বলেন, “আমি এখনও টেস্ট ম্যাচ খেলতে চাই। আকাঙ্ক্ষা পুরোদমে রয়েছে। ক্রিকেটটাকে এখনও উপভোগ করছি আমি।”

কয়েকদিনের জন্য যুক্তরাজ্যে এলেও, তিনি যে নিজের ট্রেনার এবং প্রয়োজনীয় সব ট্রেনিং কিট সঙ্গে এনেছেন, তাও স্পষ্ট করেছেন রাহানে। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে শতরানকারী এই ব্যাটার বলেন, “ঘরোয়া মরশুম শুরু হতে চলেছে। তাই প্রস্তুতিও সবে শুরু হয়েছে। সঙ্গে তাই ট্রেনার, প্রয়োজনীয় জামাকাপড় নিয়ে এসেছি।”

রাহানে, যিনি ভারতকে ছয়টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে স্ট্যান্ড-ইন ক্যাপ্টেন হিসেবে ২০২০-২১ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয়ের নজির গড়েছেন, তিনি আরও জানান যে, পারফরম্যান্স ছাড়া দলে সুযোগ পাওয়ার অন্যান্য প্যারামিটারগুলো তাঁর হাতে নেই। তিনি বলেন, “আমার হাতে যেগুলো রয়েছে কেবল সেগুলোর উপরেই ফোকাস করতে পারি আমি। সত্যি বলতে দিনকয়েক আগেও নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ক্রিকেটার হয়ে যেহেতু বিষয়গুলো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই তাই কোনো সাড়া পাইনি আমি।”

তবে নির্বাচকদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়া তাঁর মোটিভেশনে কোনোভাবে ছাপ ফেলতে পারেনি বলে জানিয়েছেন দেশের জার্সিতে ৮৫ টেস্ট খেলা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ঝুলিতে পাঁচ হাজারেরও বেশি রান এবং ১২টি শতরান নিয়ে প্রত্যাবর্তনের আশায় দিন গোনা মুম্বইকর বলেন, “একজন প্লেয়ার হিসেবে আমি শুধু ক্রিকেটটা খেলে যেতে পারি। ভালোবেসে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। আমি টেস্ট ক্রিকেটকে ভালোবাসি। লাল-বলের ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি। এই ভালোবাসাই আমাকে সবসময় এগিয়ে নিয়ে যায়।”

রাহানের এই মন্তব্য তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসাকেই তুলে ধরে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ফিটনেস এবং ফর্ম ধরে রেখে তিনি কি আবারও জাতীয় দলের লাল বলের ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার।