নাবালিকা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাবড়ায় জামাইবাবু গ্রেফতার, চাঞ্চল্য এলাকায়

দিনের পর দিন নাবালিকা শ্যালিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক জামাইবাবু। দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে পলাতক থাকার পর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাবড়া থানা এলাকার মানিকতলা ভ্যান স্ট্যান্ড থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাবড়া থানা এলাকায় তীব্র চাপানউতোর এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর। ওইদিন নির্যাতিতা নাবালিকার মা অশোকনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন, যেখানে তিনি জানান যে তাঁর মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশি তদন্ত চলাকালীনই কিছুদিন পর নাবালিকা বাড়ি ফিরে আসে। এরপরই সে তার জামাইবাবুর বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনে। নির্যাতিতার অভিযোগ, তার জামাইবাবু তাকে প্রথমে দিঘায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে হাবড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে আটকে রাখে। এই দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দিনের পর দিন একাধিকবার যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ নাবালিকার।
নাবালিকার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত জামাইবাবু গা ঢাকা দিয়েছিল। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। অবশেষে, শনিবার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং মানিকতলা ভ্যান স্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে আজই বারাসত আদালতে তোলা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা হাবড়া এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। এই ঘটনার জেরে সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।