খেজুরিতে মহরমের অনুষ্ঠানে রহস্যজনক মৃত্যু, শুভেন্দুর ডাকে বনধ, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি ব্লকের জনকা এলাকায় মহরমের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে দুই ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে, এবং এর প্রতিবাদে সোমবার, ১৪ জুলাই, খেজুরি বনধের ডাক দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মহরমের তাজিয়া মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় সূত্রে বিভিন্ন রকম তথ্যের কথা শোনা যাচ্ছে, যা ঘটনার রহস্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেউ বলছেন, ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, আবার কেউ বা অন্য কোনো কারণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার খবর পেয়েই সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে, এবং এর জন্য রাজ্য প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং মৃতদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোমবার খেজুরি বনধের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু।

শুভেন্দুর এই বনধের ডাকে খেজুরি এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই বনধকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, মহরমের মতো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা উচিত নয়। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিলেও, বনধের বিরোধিতা করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যখন রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটছে, তখন এই মহরমের ঘটনা এবং তার পরবর্তী বনধের ডাক পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দেবে। মৃতদের পরিবারের দাবি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হোক এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক। এখন দেখার, সোমবারের বনধে খেজুরিতে কী পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়।