পাকিস্তানে জারদারিকে সরিয়ে মুনির হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি? জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন PM শাহবাজ

কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা এবং তার পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আবহে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিকে অপসারণের জল্পনা তীব্র হয়েছিল। তবে, এই সমস্ত জল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়ে শনিবার এক বড় বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি জারদারিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্ত দাবি ‘শুধুমাত্র গুজব এবং ভিত্তিহীন জল্পনা’।
শাহবাজ শরিফের স্পষ্ট বার্তা
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি সংবাদপত্র ‘দ্য নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কখনও রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি এবং এমন কোনও পরিকল্পনাও বিবেচনাধীন নেই।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি (শাহবাজ শরিফ), রাষ্ট্রপতি জারদারি এবং সেনাপ্রধান মুনির পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পাকিস্তানের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে নিজেদের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখেন। তার মতে, এই ধরনের গুজব কেবল দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকভির কড়া নিন্দা
প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির একদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (পূর্বে টুইটার)-এ জারদারি, শরিফ এবং মুনিরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। নকভি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই প্রচারণার পিছনে কারা রয়েছে তা সকলেই জানেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়নি এবং সেনাপ্রধানও রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ‘অভিযানে’ বিদেশি শত্রু সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, “যারা এই ষড়যন্ত্রের অংশ, তারা যার সঙ্গেই যোগদান করুক না কেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানকে আবার শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল করে তোলা। ইনশাআল্লাহ, আমরা প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেব।”
মুনিরের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ভুট্টো পরিবারের প্রভাব
উল্লেখ্য, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ২০২২ সালে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য সেনাপ্রধান নিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে, সরকার সম্প্রতি তার মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে তার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে, গত বছরের নির্বাচনে জারদারি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে সমর্থন করেছিলেন। এই সমর্থনের বিনিময়ে জারদারিকে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল। এছাড়াও, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টোর সঙ্গেও ক্ষমতাসীন দলের সুসম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি, বিলাওয়াল ভুট্টোকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যারা বিশ্ব পর্যায়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিভিন্ন দেশের রাজধানী সফর করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে, পাকিস্তানের ক্ষমতার করিডোরে ভুট্টো পরিবারের প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।
সামগ্রিকভাবে, এই সমস্ত বিবৃতি এবং ঘটনা প্রবাহ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষত আঞ্চলিক উত্তেজনার এই সময়ে।