পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি…! কাদোপিন্ড্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ঝোলালো গ্রামবাসীরা

শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে ঝাড়গ্রামের জামবনি ব্লকের গিধনি পূর্ব চক্রের অধীন চিচিড়া অঞ্চলের কাদোপিন্ড্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে, স্কুলের উঁচু শ্রেণির পড়ুয়ারাই বাধ্য হচ্ছে নিচু শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করতে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থার প্রতিবাদে আজ সকালে বিদ্যালয়ের মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে শামিল হলেন অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা, যা শিক্ষাব্যবস্থার এক করুণ চিত্র তুলে ধরল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৬৪ জন পড়ুয়া রয়েছে এই বিদ্যালয়ে। আগে তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও, তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিবাদের জেরে মাস খানেক আগে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান জয়দীপ হোতার নির্দেশে তিন জনকেই অন্য স্কুলে বদলি করা হয়।

বদলি অমান্য, নতুন শিক্ষকের আগমন থমকে
সমস্যা আরও জটিল হয় যখন, দু’জন শিক্ষক নতুন স্কুলে যোগ দিলেও প্রধান শিক্ষিকা রেখা মাহাতো বদলির নির্দেশ অমান্য করে আগের স্কুলেই থেকে যান। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁর উপস্থিতির কারণে নতুন করে এই বিদ্যালয়ে যাঁদের আসার কথা ছিল, তাঁরাও আসেননি। ফলস্বরূপ, একজন শিক্ষিকার হাতেই পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্ব চলে আসে, যার ফলে পঠনপাঠনের মান একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে প্রায়শই পঠনপাঠন হয় না, এবং ছাত্ররাই নিচু শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়ায়। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল রান্নাও হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের তৎপরতা: সমাধানের আশ্বাস
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন গিধনি পূর্ব চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মুনমুন সিং সর্দার এবং জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান জয়দীপ হোতা। চেয়ারম্যান জয়দীপ হোতা এই সমস্যার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে দুই সহকর্মীর দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। সেই কারণেই তাঁদের তিনজনকেই বদলি করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষিকা নির্দেশ অমান্য করেছেন। আমি তাঁকে শীঘ্রই কুড়ারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাদোপিন্ড্রা বিদ্যালয়ে দ্রুত তিনজন নতুন শিক্ষক পাঠানো হবে। যদিও প্রধান শিক্ষিকা রেখা মাহাতোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই পদক্ষেপগুলি বিদ্যালয়ের পঠনপাঠনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা আবারও সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ, বদলি নীতি এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এল। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং দ্রুত পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।