সাহারার সম্পত্তি বিক্রির টাকা পুরছিল নিজেদের পকেটে! দুজনকে হাতে নারে ধরল ED

সাহারা গোষ্ঠীর সম্পত্তি বিক্রির অর্থে তছরুপের অভিযোগে দুই প্রাক্তন কর্তা জিতেন্দ্র প্রসাদ ভার্মা ও অনিল আব্রাহাম-কে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। জানা গিয়েছে, ধৃত অনিল একসময় সাহারা গ্রুপে ম্যানেজারের পদে কর্মরত ছিলেন।

শনিবার (আজ) তাঁদের বিশেষ ইডি আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারী সংস্থার তরফে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে।

অভিযোগ কী?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাহারা গোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ অবসায়িত আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের একাংশ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সেবি-র নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা পড়লেও, অভিযোগ উঠেছে— বাকি টাকা নগদে ‘ডিল’ করে নিজেদের পকেটে তোলেন ধৃতরা।

তদন্তে উঠে এসেছে, এই সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে নগদ লেনদেনে বড়সড় অনিয়ম করেছেন অভিযুক্তরা। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের টাকা যাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফেরত যায়, সেই উদ্দেশ্যে গঠিত ব্যবস্থাকে তাঁরা বেপরোয়াভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ফাঁকি দিয়েছেন।

ইডির তদন্তে কী উঠে এল?
তদন্তের স্বার্থে ইডি আলাদা করে একটি মামলা রুজু করে। এরপরই দুই অভিযুক্তকে তলব করে জেরা করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তাঁদের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ প্রমাণযোগ্য হওয়ায় দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুরনো মামলা নতুন মোড় নিচ্ছে
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালেই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) নির্দেশ দেয়, সাহারা গোষ্ঠীর অধীনস্থ দুটি সংস্থা—

Sahara India Real Estate Corporation Ltd

Sahara Housing Investment Corporation Ltd

এই দুটি প্রতিষ্ঠান অননুমোদিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগকারীদের থেকে সংগ্রহ করেছিল, যা বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সেই অর্থ ফেরতের জন্য সম্পত্তি বিক্রি করে ফান্ড জোগাড়ের প্রক্রিয়া চলছে।

সাহারা গোষ্ঠী সংক্রান্ত মামলার পটভূমিতে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনায় প্রমাণ মিললে আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্তের জাল বিস্তার করতে পারে ইডি।
সেবি-র অধীনে যারা বছরের পর বছর ধরে টাকার ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের সামনে ন্যায়ের আশাও তৈরি হচ্ছে— যদি দুর্নীতির এই শৃঙ্খল ভাঙা যায়।