শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট, ছ’দশকের সমস্যা সমাধানে নতুন করে আশার আলো, নাকি কেবলই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি?

শিলিগুড়ির বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র বিধান মার্কেট, যা গত ছয় দশক ধরে শহরের এক বিশাল অংশের মানুষের ভরসার বাজার, আজও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতির ইতিহাসও কম দীর্ঘ নয়, যা ব্যবসায়ীদের মনে সংশয় তৈরি করেছে। তবে, সদ্য নিযুক্ত এসজেডিএ চেয়ারম্যান দিলীপ দুগ্গার আগমন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দিলীপ দুগ্গার শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই এক সুরে ঘোষণা করেছেন যে, এবার বিধান মার্কেটের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রশাসন বিশেষ জোর দেবে। দিলীপ দুগ্গার জানিয়েছেন, “বিধান মার্কেট কমিটির সঙ্গে খুব শীঘ্রই আলোচনা হবে। যে সমস্যাগুলো বছরের পর বছর ধরে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা হবে।”

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস ও নতুন বোর্ডের ভরসা:

তবে ব্যবসায়ীরা কতটা ভরসা রাখছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাপি সাহা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৬২ সালের ১ বৈশাখে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের হাত ধরে এই মার্কেটের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই শুরু থেকেই জমির মালিকানা, এগ্রিমেন্ট, এবং পরিকাঠামো— সবকিছু নিয়েই চলছে অনিশ্চয়তা।

বাপি সাহা বলেন, “প্রথমে লট সিস্টেম, পরে পাঁচ থেকে আট বছরের এগ্রিমেন্ট, তারপর ১১ মাসের এগ্রিমেন্ট— ফলে ব্যবসায়ীরা এখনও ভাড়াটিয়া হিসেবেই থেকে গেছেন।” তিনি আরও জানান, ২০০৭ সালে এনআর সেক্টর বিল্ডিংয়ে ১৬০টি দোকান ৯৯ বছরের লিজ পেলেও, বাকি প্রায় ১৬৫০ জন ব্যবসায়ীর ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। বারবার মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে, তবুও সমাধান অধরা।

জমির অধিকার, বেহাল পরিকাঠামো, জলনিকাশি ব্যবস্থা, টয়লেট এবং পার্কিং— এই সমস্ত মৌলিক সমস্যা একই জায়গায় আটকে আছে। বাপি সাহা নতুন বোর্ডের বৈঠক বসার আগ্রহ দেখে খুশি হলেও, এখনও কোনও লিখিত নির্দেশিকা হাতে না আসায় তিনি অপেক্ষা করছেন— সত্যিই বৈঠক হবে কি না, আর তাতে ফল মিলবে কি না!

প্রায় ৩৫-৩৮ বছর ধরে বিধান মার্কেটে ব্যবসা করা অরূপ নন্দীর মতো অনেক ব্যবসায়ী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সমস্যার তালিকা একই— পার্কিং নেই, টয়লেট নেই, জল জমে থাকে, মালিকানা নেই।” তবে নতুন বোর্ডে তাদের মনে কিছুটা হলেও ভরসা ফিরে এসেছে। তাঁদের আশা, হয়তো এবার সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে।

তবে বিধান মার্কেটের ইতিহাস বলছে, আশ্বাস এসেছে বহুবার, কিন্তু বাস্তবে বদল এসেছে খুবই সামান্য। এবারও ব্যবসায়ীরা চোখ রাখছেন দিলীপ দুগ্গারের দিকে— তিনি কি পুরনো সেই ভাঙা প্রতিশ্রুতির ইতিহাস ভেঙে সত্যিই নতুন কিছু গড়তে পারেন, নাকি এটিও কেবল আরেকটি আশ্বাসের গল্প হয়েই থাকবে?