রাইফেল হাতে তৃণমূল বিধায়কের নাবালক নাতি! ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল, প্রশ্নের মুখে শাসকদল

১১ বছর বয়সি এক কিশোর। চোখে কালো চশমা, হাতে অত্যাধুনিক রাইফেল! এই দৃশ্য নতুন কোনও অ্যাকশন ফিল্মের নয়, বরং বাস্তব ঘটনা। ছবির নায়ক তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংয়ের নাবালক নাতি। আর এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ছবি বাংলার সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং।বৃহস্পতিবার ভাইরাল হয় একটি ছবি, যেখানে তাঁর নাতিকে বিছানায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে— হাতে ধরা কালো রঙের রাইফেল।ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে সে নিজেই, তারপর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন উঠছে:
নাবালকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে এল?সেটি কি বৈধ অস্ত্র?পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা বিষয়টি সম্পর্কে কী জানতেন?
হরেরাম সিং দাবি করেছেন,“আমার নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ওটা অনেক দিন আগের ছবি। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। অজান্তে ও তা পোস্ট করেছে। ওকে এ নিয়ে বুঝিয়ে বলব।”তবে কোন মডেলের আগ্নেয়াস্ত্র, তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।
বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এই ঘটনায় সরব হয়েছেন। তাঁর কটাক্ষ,“এই বাংলার সংস্কৃতি নয়। তৃণমূল বাংলায় অস্ত্র সংস্কৃতি আমদানি করেছে। বিধায়ক কি নিজের পরিবারের ছোটদের ভবিষ্যতের মনোজিৎ মিশ্র বানাতে চাইছেন?”
তিনি আরও বলেন,“এভাবে ছোট বয়সেই যদি কারও হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের চিত্র ভয়ঙ্কর হতে বাধ্য।”
আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবিতে থাকা রাইফেলটি হ্যান্ডমেড সোফিস্টিকেটেড .৩০৩ ক্যালিবারের।এটি সেলফ লোডেড, পাঁচ রাউন্ড অ্যামুনিশন সহ।সাধারণত মেড ইন মুঙ্গের বা ঔরঙ্গাবাদ হয় এই ধরনের অস্ত্র।তবে এটি নিরাপদ পরিবেশে রাখা ও পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার জেরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই বলছেন,“নাবালকের হাতে অস্ত্র মানে আইন লঙ্ঘন। এটা শুধু পারিবারিক গাফিলতি নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব।”কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সাধারণ কোনও নাগরিকের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটত, তবে কী তত সহজে ছাড়া পেত?