কপিল শর্মার ক্যাফেতে ‘জঙ্গি’ হামলা, ঘটনার দায় নিল খলিস্তানি সংগঠন

জনপ্রিয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার সদ্য খোলা কানাডার ক্যাফে ‘ক্যাপস ক্যাফে’-র সামনে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, বুধবার রাতে (স্থানীয় সময়) কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী গাড়ি থেকে নেমে আকস্মিকভাবে এই হামলা চালায়। পরবর্তীতে, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত খলিস্তানি জঙ্গি হরজিং সিং লাড্ডি, যা ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
সম্প্রতি কানাডায় ‘ক্যাপস ক্যাফে’ খুলেছিলেন কপিল শর্মা, যা অনুরাগীদের মধ্যে বেশ উন্মাদনা তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই ক্যাফের সামনেই বন্দুকবাজদের এমন দৌরাত্ম্য সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি গাড়ি থেকে পিস্তল বের করে কয়েকজন দুষ্কৃতী বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালাচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা একটি গাড়িতে করে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমেডিয়ান কপিল শর্মার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য কপিলের ক্যাফে ছিল, নাকি বহুতলের অন্য কোনো অংশ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, কপিলের ক্যাফেটি যে বহুতলে অবস্থিত, সেখানেই গুলি চালানো হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল:
কানাডার যে বহুতলে কপিল শর্মার ক্যাফে রয়েছে, সেখানে আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতী গাড়ি করে এসে গুলি বর্ষণ করে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুষ্কৃতীদের নিশানায় কপিলের ক্যাফে ছিল, নাকি তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমেডিয়ান হিসেবে কপিল শর্মা বর্তমানে জনপ্রিয়তার শিখরে রয়েছেন। তাঁর ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’ দর্শকদের মন জয় করেছে। কমেডি শোর পাশাপাশি তিনি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করে সিনেজগতে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। এই বিপুল জনপ্রিয়তার পরই বিদেশের মাটিতে তাঁর ক্যাফে ব্যবসা শুরু করা ছিল তাঁর এক নতুন পদক্ষেপ। কিন্তু এই নতুন উদ্যোগে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সকলকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কানাডার মাটিতে খলিস্তানি জঙ্গির এই দায় স্বীকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।