স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা কেন? ‘লজ্জিত’ VC, অবশেষে খুললেন মুখ বললেন…?

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনার্স পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বিপ্লবীদের সম্পর্কে বিতর্কিত শব্দচয়নের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর জানিয়েছেন, এই ‘অনিচ্ছাকৃত’ ভুলের জন্য ইউজি বোর্ড অফ স্টাডিজের চেয়ারম্যান এবং মডারেশন বোর্ডের এক সদস্য, দু’জনকেই তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘লজ্জিত ও আহত’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের (ষষ্ঠ সেমিস্টার) ইতিহাস অনার্স পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র থেকে। অভিযোগ ওঠে, ‘ঔপনিবেশিক’ প্রসঙ্গ ঘিরে ভুল অনুবাদের কারণে প্রশ্নপত্রে বিপ্লবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর বৃহস্পতিবার এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, “টাইপোগ্রাফিক্যাল বা প্রিন্টিং মিসটেকের জন্যই এই ভুল হয়েছে। তবে আমরা এটিকে সাধারণ ত্রুটি হিসেবে দেখছি না। ইতিহাস এবং বিপ্লবীদের প্রসঙ্গে ভুল হওয়াটা দুঃখজনক।” পরীক্ষা নিয়ামক ও ইউজিসি বোর্ডের চেয়ারম্যানের রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দুই অধ্যাপককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নতুনভাবে দুই সিনিয়র শিক্ষকের হাতে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে বিশেষ সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য জানান, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র এবং পাঠ্যক্রমে ‘কলোনিয়াল’ বা ‘ঔপনিবেশিক’ শব্দ ব্যবহারে সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে। যেসব রেফারেন্স বইয়ে এই শব্দগুলি আছে, সেগুলিও বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য আরও বলেন, “ইতিহাস বিষয়ে বাংলায় অনুবাদ করার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি শব্দ বাদ পড়ে যায়, ফলে ভুল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়।” প্রশ্নটির মূল্যায়ন ও উত্তরপত্র মূল্যনির্ধারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পরীক্ষা নিয়ামক।

এই ঘটনা শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নে আরও বেশি সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।