হায়দরাবাদে ‘সফিস্টিকেটেড’ মাদক চক্র ফাঁস, গ্রেফতার হোটেলের মালিক

মাদক পাচার নতুন কিছু নয়, তবে এবার হায়দরাবাদে যে ‘উন্নত ও সংঘবদ্ধ’ মাদকচক্রের সন্ধান মিলেছে, তা তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা প্রশাসনকে। এলিট অ্যাকশন গ্রুপ ফর ড্রাগ ল’ এনফোর্সমেন্ট (EAGLE)-এর অভিযানে ফাঁস হয়েছে এই চক্র, যার যোগ রয়েছে নাইজেরিয়ান পাচারকারী, অভিজাত হোটেল ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও।
চক্রের মূল পান্ডা কে?
চক্রের মূল অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সি সূর্য আন্নামানেনি, হায়দরাবাদের কোম্পালির বাসিন্দা। পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার ও এমবিএ পাশ করা সূর্য মালিক ‘মালনাড়ু কিচেন’ নামক একটি অভিজাত রেস্তরাঁর। গত ৭ জুলাই তার টাটা স্করপিও গাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে—
১০ গ্রাম কোকেন
৩.২ গ্রাম ওজি কুশ (বিশেষ প্রজাতির গাঁজা)
১.৬ গ্রাম এক্সট্যাসি বড়ি
চমকপ্রদ তথ্য: কোকেন লুকোনো ছিল একটি হাই হিল জুতোর ভিতরে! সূর্য জানায়, এইসব মাদক সে পেয়েছিল দিল্লি থেকে পাঠানো কুরিয়ারে, যেখানে সেগুলি গৃহস্থালির জিনিসের ভিতরে লুকিয়ে আনা হয়।
এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে চিহ্নিত এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন বিশিষ্ট হোটেল উদ্যোক্তাও। পুলিশের দাবি, সূর্যের নেতৃত্বে চলা মাদকচক্রের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও গোয়া পর্যন্ত। সংযোগ রয়েছে একাধিক নাইজেরিয়ান মাদকচক্রের সঙ্গেও।
সূর্য পুলিশের কাছে জানিয়েছে, নাইজেরিয়ান পাচারকারী নিক, জেরি, ডেজমন্ড, স্ট্যানলি এবং প্রিন্স-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার। মাদক কেনাবেচার জন্য সে একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাত, যার পর কুরিয়ারে মাদক এসে পৌঁছত হায়দরাবাদে।
সূর্য মাদক গাড়ি বা রেস্তোরাঁয় লুকিয়ে রাখত, পরে তা নির্দিষ্ট ‘ক্লায়েন্ট’-দের কাছে পৌঁছে দিত। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্র মাদক লুকোতে অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করত— যেমন হাই হিল জুতো, প্যাকেটবন্দি হোম ডেলিভারি সামগ্রী, ইত্যাদি।
হায়দরাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, এই গোটা চক্রটি এখন তাদের নজরে এবং আরও বড় মাপের অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। মাদকের উৎস, অর্থ লেনদেন, পাচারের রুট, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটা শুধুমাত্র একটি শহরের সমস্যা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ছায়া ভারতেও পড়তে শুরু করেছে।