মেমারিতে বসে কীভাবে জওয়ানদের হানিট্র্যাপ? মেমারি থেকে ধৃত ২, ভারতীয় সেনা নিশানায়!

দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। পাকিস্তানের সঙ্গে সন্দেহজনক যোগাযোগের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। সূত্র মারফত জানা গেছে, ধৃতেরা পাকিস্তানি এক এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতে ভারতীয় মোবাইল নম্বর এবং হোয়াটসঅ্যাপ ওটিপি (OTP) তুলে দিচ্ছিল। এই নম্বরগুলি ব্যবহার করে পাকিস্তান থেকেই পরিচালিত হচ্ছিল ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, যা পরবর্তীতে ভারতীয় সেনা আধিকারিকদের ‘হানিট্র্যাপ’ (Honeytrap) করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

‘হানিট্র্যাপ’-এর কৌশল ও গভীর ষড়যন্ত্র
রাজ্য এসটিএফ-এর তদন্তে বারবার উঠে এসেছে যে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থাগুলি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে ভারতীয় সেনা ও টেলিকম সংস্থার কর্মীদের নিশানা করছে। এক্ষেত্রে ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রচলিত কৌশল। প্রথমে, পাকিস্তানি এজেন্টরা মহিলাদের ভুয়ো আইডি (Fake ID) ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। অনেক সময় মহিলা পাক এজেন্টরাও সরাসরি এই অপারেশন চালাত।

প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হত সেনা আধিকারিকদের। পাকিস্তানি এজেন্টরা মহিলাদের গলায় কথা বলত এবং কথোপকথনের মাধ্যমে গোপন তথ্য আদান-প্রদান করত। এমনকি ভিডিও কলও চলত, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানে পাচার হয়ে যেত। অনেক সময় টাকার লোভ দেখিয়েও তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হত বলে খবর।

মেমারির ধৃতরা: মুকেশ ও রাকেশ
মেমারি থেকে ধৃতদের নাম মুকেশ রজক এবং রাকেশ কুমার গুপ্ত। অভিযোগ, এই অভিযুক্তরা পূর্ব বর্ধমানের মেমারি, বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার দোকান থেকে বেনামে সিম কার্ড তুলত। সেই মোবাইল নম্বরগুলির হোয়াটসঅ্যাপ খোলার জন্য সেগুলি গুপ্তচর সংস্থার হাতে পাঠাত। তারা সরাসরি এই ‘হানিট্র্যাপ’ ফঁাদার কাজে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

আশ্চর্যজনকভাবে, রাকেশ গুপ্তা বর্ধমান থানার উল্টো দিকের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ছিল। নার্সিংহোমের ম্যানেজার প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ জানিয়েছেন, রাকেশ গত ৩০ জুন হার্নিয়ার চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিল এবং তার পেটে ব্যথা, বমি সহ নানা উপসর্গ ছিল। ৪ জুলাই ছুটি পেতেই নার্সিংহোমের বাইরে তাকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। নার্সিংহোম সূত্রে আরও খবর, অভিযুক্তকে দেখতে এক মহিলা আসতেন, যিনি তার প্রেমিকা বলেই পরিচিত।

জাতীয় সুরক্ষায় গুরুতর হুমকি
এসটিএফ জানিয়েছে, ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর যদি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে স্প্যাম (Spam), তথ্য পাচার (Data Leak) এমনকি জঙ্গি কার্যকলাপেও (Terrorist Activities) এই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার হতে পারে।

এসটিএফ-এর এক আধিকারিক বলেন, “কেউ যদি দেশের মোবাইল নম্বর পাকিস্তানে বসে পরিচালনার সুযোগ দেয়, তাহলে সেটা কেবল বেআইনি নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধেও স্পষ্ট ষড়যন্ত্র। তদন্তে আরও কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এই গ্রেফতারি দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার গভীরে ঢুকে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এসটিএফ।