গত ১ বছরে দিলীপের সাথে কেমন ব্যবহার করেছিল দল? অবশেষে বোমা ফাটালেন BJP নেতা

দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবার আর চেপে রাখলেন না দিলীপ ঘোষ। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির কণ্ঠে স্পষ্ট প্রতিধ্বনি— তাঁকে দল ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তিনি দমে যাননি, বরং লড়াই করে গেছেন।

দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর যদিও দলবদলের জল্পনায় জল ঢেলেছিলেন দিলীপ, তবে দিল্লি থেকে ফেরার পর বুধবার আরও স্পষ্ট করে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।

দিল্লি থেকে ফেরার পর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য
স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন,”এক বছর হল দল কোনও দায়িত্ব দেয়নি। ২০২৪ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ছিলাম। এখন বাংলায় ফের নির্বাচন আসছে। দল চাইলে দায়িত্ব দেবেই, আমি করব।”

তাঁর কথায়, “দলের মধ্যে কিছু মানুষ আমাকে দলছাড়া করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি লড়ে গিয়েছি, দল ছাড়িনি।”

এখানেই থেমে থাকেননি দিলীপ। বলেন,”দলের মিটিংয়ে আমাকে চেয়ারে বসতেও দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে গিয়েছি। যে দল আমাকে তৈরি করেছে, সেই দল ছেড়ে চলে যাব কেন?”

তৃণমূলের শহিদ দিবস উপলক্ষে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকবেন কিনা তা নিয়ে বেশ জল্পনা তৈরি হয়েছিল। নিজেই আগেই মন্তব্য করেছিলেন, “২১ জুলাই কিছু একটা হবে”, যা নানা ব্যাখ্যার জন্ম দেয় রাজনৈতিক মহলে। পরে অবশ্য শমীক ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আর দিলীপও সে কথা মেনে নেন।

“শমীক বলেছেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন, এটা খুব ভালো দিক। বহু পুরনো কর্মীরা এতে উৎসাহিত।” — বলেন দিলীপ।

ক্ষোভ প্রকাশের নেপথ্যে কী?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যগুলো শুধু অভিমান নয়, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের চিত্রও তুলে ধরছে। দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর থেকে দিলীপ ঘোষের ভূমিকা ক্রমশ আড়ালে চলে যায়, যার ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।“দল আমাকে দায়িত্ব না দিতেই পারে, কিন্তু কেউ যদি চায় আমি দল ছেড়ে যাই, তাহলে ভুল ভাবছে। আমি যে পার্টি গড়ে তুলেছি, সেটা ছেড়ে যাব না।” — স্পষ্ট বার্তা দিলীপ ঘোষের।

দলের অন্দরের ক্ষোভ এবার আর চাপা থাকল না। দিলীপ ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ এই বার্তাগুলি যে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত হতাশা নয়, বরং বিজেপির রাজ্য রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিচ্ছবি— তা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আরও অপেক্ষা, ২১ জুলাই দিলীপ ঘোষের গতি-প্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।