“সংসার বড় হলে সমস্যা আসে…”, শমীকের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই বিস্ফোরক দিলীপ!

রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে সংগঠনের নতুন পর্ব। সেই প্রেক্ষাপটে ফের সামনে উঠে এসেছে এক পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ নাম—দিলীপ ঘোষ। বাংলায় বিজেপিকে ঘরছাড়া অবস্থা থেকে তুলনারহিত উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া এই নেতা কি আবারও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ফিরছেন? না কি এ কেবলই সৌজন্য সাক্ষাৎ?

জল্পনার শুরু মূলত দিলীপ ঘোষকে নিয়েই। জুলাই মাসে দলের কোনও বড় মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে একথা অস্বীকার করা যায় না, রাজ্য সভাপতির আসনে শমীক ভট্টাচার্যের অভিষেকের সময় তাঁর পাশে ছিলেন না দিলীপ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তখন থেকেই দিলীপ ও দলের মধ্যে একপ্রকার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

এদিকে, সংগঠন পরিচালনায় শমীকের কৌশল অনেকটাই আলাদা। আগের রাজ্য নেতৃত্বের তুলনায় তাঁর কাজের ধরনে এসেছে ভিন্নতা। সেই পরিবর্তিত কৌশলের সঙ্গে কি মানিয়ে নিতে পারবেন এক সময়কার রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ? তাঁর ‘ফের কেন্দ্রমুখী’ হওয়ার জল্পনা কি বাস্তবের ছায়া?

এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে পরিস্থিতি মোড় নিচ্ছে নতুন দিকে। শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টেয় সল্টলেকের বিজেপি দফতরে প্রথমবারের জন্য মুখোমুখি বসছেন দিলীপ ও শমীক। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেদিকেই।

দিলীপ ঘোষ এদিন সাংবাদিকদের বলেন, “শমীকবাবু সভাপতি হওয়ার সময় আমি বাইরে ছিলাম, তাই দেখা হয়নি। আজ অফিসে যাচ্ছি, ওনার সঙ্গে দেখা করব।” একপ্রকার ভাঙা সম্পর্ক জোড়ার শুরুও বলা যেতে পারে এটিকে।

অন্যদিকে শমীক শুরু থেকেই আদি-নব্য নেতাদের একত্রে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যারা জমানত বাজেয়াপ্ত জেনেও বিজেপির পতাকা তুলেছিলেন, তাঁদের সম্মান প্রাপ্য।” সেই তালিকায় অবশ্যই রয়েছেন দিলীপ ঘোষও।

আদি-নব্য সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিলীপ বলেন, “বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তাই সবার সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে। সংসার বড় হলে সমস্যা আসে, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হবে। আলোচনা করেই সমাধান খুঁজতে হবে।”

তাঁকে ২১ জুলাইয়ের বিজেপি মঞ্চে দেখা যাবে কি না, সে প্রশ্নে দিলীপের জবাব, “অনেক ২১ জুলাই গিয়েছে, আবার যাবে। আমরা এসব নিয়ে ভাবি না। যারা অভ্যস্ত, তারাই ভাবছে।”

সব মিলিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা কি হতে চলেছে রাজ্য বিজেপিতে? পুরনো অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও নতুন কৌশলের মেলবন্ধন—তারই সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরি হতে চলেছে মঙ্গলবার বিকেলের সাক্ষাৎ-পর্বে।