জাপান, বাংলাদেশ সহ ১৪টি দেশকে শুল্ক আরোপের চিঠি, ভারতকে ছাড় দিলেন ট্রাম্প?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪টি দেশের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্য নীতির ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মায়ানমার, লাওস, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া অন্যতম। এই দেশগুলি থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। সোমবার বিশ্বজুড়ে এই দেশগুলিতে তাঁর স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চিঠি পাঠিয়ে কার্যত ‘শুল্ক বোমা’ ফাটিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য এসেছে খুশির খবর, কারণ ভারতের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকটি পোস্টে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এই দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ট্রাম্প এই দেশগুলিকে ‘স্বীকার করো নয়তো ছেড়ে দাও’ (accept it or leave it) আল্টিমেটাম দিয়ে একটি শুল্ক পত্র জারি করেছেন। এর লক্ষ্য হলো আলোচনার গতি বাড়ানো এবং শুল্ক ব্যবস্থাকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।
ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক হারগুলি বাণিজ্য ঘাটতি সম্পূর্ণরূপে দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় হারের তুলনায় অনেক কম। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকা এই দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, তবে তা আরও ন্যায্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
ভারতের জন্য বিশেষ বার্তা
আশ্চর্যজনকভাবে, এখনও পর্যন্ত ভারতের উপর কোনো শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। বরং ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে শীঘ্রই একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচিত হয়েছে।
বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে ট্রাম্পের বড় বক্তব্য
ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা ব্রিটেন এবং চীনের সঙ্গেও একটি চুক্তি করেছি।” শুল্ক আরোপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যেসব দেশকে শুল্ক পত্র পাঠিয়েছি তাদের সঙ্গেও দেখা করেছি। আমরা মনে করি না যে আমরা কোনো চুক্তি করতে পারব, তাই তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা অন্যান্য দেশগুলিকে চিঠি পাঠাচ্ছি, যেখানে তাদের জানানো হচ্ছে যে তাদের কত শুল্ক দিতে হবে।” ট্রাম্প আরও বলেন, এই শুল্কের পরে কিছু দেশ কিছু সমন্বয় করতে পারে, তবে এটি নির্ভর করবে তাদের কাছে বৈধ কারণ আছে কিনা তার উপর।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, তবে ভারতের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।