এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে কোণঠাসা রাজ্য-কমিশন, ‘অযোগ্যদের’ পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ!

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী নির্দেশ রাজ্যের শাসকদল এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) অবস্থানকে চরমভাবে কোণঠাসা করে দিয়েছে। হাইকোর্ট সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ প্রার্থীরা কোনো অবস্থাতেই অংশ নিতে পারবেন না। আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে এমন এক সময়, যখন রাজ্য এবং এসএসসি আদালতে এই চিহ্নিত ‘অযোগ্য’দের পক্ষেই সওয়াল করছিল।
রাজ্য ও কমিশনের বিতর্কিত অবস্থান:
এসএসসি-র নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালতে রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্যদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্যরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না!” তিনি আরও যুক্তি দেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই অযোগ্যরা কেবল বয়সজনিত ছাড় পাবেন না, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। এই যুক্তি ঘিরে আদালতে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়। দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুযোগ দেওয়ার এই চেষ্টা নিয়ে জনমানসে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: মেধার জয়, দুর্নীতির হার:
তবে, রাজ্যের এই যুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, নতুন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্যরা অংশ নিতে পারবেন না। তাঁদের ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সংগঠিত করতে হবে।
আদালত এসএসসি এবং রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়েই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত কোনো অযোগ্য ব্যক্তি ইতিমধ্যে আবেদন করেও থাকেন, তবে সেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
বিচার ও জবাবদিহিতার বার্তা:
হাইকোর্টের এই নির্দেশ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা দিল। একদিকে যখন রাজ্য সরকার এবং কমিশন এই অভিযুক্তদের ফের সুযোগ দিতে মরিয়া ছিল, তখনই আদালতের এই রায় ন্যায়বিচার এবং মেধার প্রতি তার অঙ্গীকার প্রমাণ করল। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সাথে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমানসের ক্ষোভ এবং আদালতের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।