বিভীষিকাময় সোমবার, একাধিক বাস দুর্ঘটনা, আহত অর্ধশতাধিক; অল্পের জন্য বাঁচল প্রাণ!

ছুটির দিনের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালটা একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ। নিবেদিতা সেতুতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে কৃষ্ণনগরের প্রাণকেন্দ্রে ইলেকট্রিক পোস্টে বাসের ধাক্কা, আর চুঁচুড়ায় পুকুরে গাড়ি পড়ে যাওয়ার ঘটনা – একের পর এক দুঃসংবাদ মিলিয়ে একটি বিভীষিকাময় দিন দেখল রাজ্যবাসী। এসব ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নেই।

নিবেদিতা সেতুর বুকে আতঙ্ক:

আসানসোল-দুর্গাপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ‘গ্রীন লাইন’-এর একটি যাত্রীবোঝাই বাস নিবেদিতা সেতুর টোল প্লাজার কাছে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডরেলে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় একজন বয়স্ক যাত্রী ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এই ঘটনায় কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বালি থানা এবং বালি ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকি যাত্রীদের অন্য গাড়ির মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। এই ঘটনা সেতুর উপর তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে।

কৃষ্ণনগরে পথসভার রূপ নিল সড়ক:

অন্যদিকে, নদীয়ার কৃষ্ণনগরে একটি আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। নবদ্বীপ থেকে করিমপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস, যা কৃষ্ণনগর হেলিপ্যাড সংলগ্ন রাজ্য সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল বাসটিতে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সকলেই চিকিৎসাধীন। কোতোয়ালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। অল্পের জন্য বহু পথচারী বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

চুঁচুড়ায় পুকুরে গাড়ি, অল্পের জন্য রক্ষা দম্পতি:

এরই মধ্যে, সোমবার সকালেই হুগলির চুঁচুড়ার কাপাসডাঙ্গা সতীন সেন স্কুলের পাশের একটি পুকুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় একটি চার চাকা গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাড়ির মালিক সুনীল সাধু তাঁর স্ত্রীকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। সুনীল সাধু নিজে জানিয়েছেন যে, একটি সাইকেল হঠাৎ সামনে চলে আসায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি সরাসরি পুকুরের দিকে চলে যায়। বাঁধানো পুকুরে গাড়ির সামনের অংশটি জলে ঝুঁকে পুরোপুরি ডুবে যায়। সৌভাগ্যক্রমে, গাড়ির সওয়ার স্বামী-স্ত্রী কোনোভাবে গেট খুলে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে ক্রেন নিয়ে এসে গাড়িটিকে পুকুর থেকে তোলা হয়। জনবহুল কাপাসডাঙা এলাকায় এমন ঘটনা দেখতে ভিড় জমে যায় এবং বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে দম্পতি রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন স্থানীয়রা।

এই একের পর এক দুর্ঘটনাগুলি রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।