দিল্লির রিঠালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চারতলা কারখানায় দাউদাউ আগুন, ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

গভীর রাতে রাজধানীর বুকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি চারতলা কারখানা। সোমবার ভোররাতে দিল্লির বুধ বিহার থানার অন্তর্গত রিঠালার রানা কমপ্লেক্সের গেট নম্বর ২-এ অবস্থিত এই কারখানায় লাগা আগুনে তিনজন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিট নাগাদ, যখন পুলিশ একটি কারখানায় আগুন লাগার এবং ভিতরে কয়েকজনের আটকে পড়ার খবর পায়। খবর পাওয়া মাত্রই বুধ বিহার থানার পুলিশ ও ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি, দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন দ্রুতগতিতে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ধ্বংসস্তূপের বর্ণনা ও হতাহত:

পুড়ে যাওয়া এই চারতলা ভবনটির প্রথম দুটি তলায় ছিল রেডিমেড পোশাক এবং প্লাস্টিক ব্যাগ তৈরির কারখানা, যা মালিক সুরেশ বনসলের পুত্র নিতিন বনসল পরিচালনা করতেন। দ্বিতীয় তলার একাংশে আনন্দ নামে একজন ফ্যাব্রিকের কাজ করতেন ভাড়াটে হিসেবে। তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ছিল গোডাউন, যা ৬৯ বছর বয়সী রাকেশ অরোরা ভাড়া নিয়ে ডিসপোজেবল সামগ্রী তৈরির কাজে ব্যবহার করতেন।

আগুনের সূত্রপাতের পরপরই, CATS অ্যাম্বুলেন্স ৩১ বছর বয়সী নিতিন বনসল, ৩০ বছর বয়সী কর্মী রাকেশ এবং ২৫ বছর বয়সী বীরেন্দ্রকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। নিতিন ও রাকেশ দুজনেই ৮০% পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছেন এবং তাঁদের ডঃ বিএসএ হাসপাতাল থেকে পরে RML হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বীরেন্দ্রর আঘাত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর।

দুর্ভাগ্যবশত, রাত ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ দমকলকর্মীরা কারখানার প্রথম তলা থেকে তিনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করেন, যাদের শনাক্ত করা এখনও সম্ভব হয়নি। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য ডঃ বিএসএ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দমকলের লড়াই ও তদন্ত:

সারা রাত ধরে দমকল বাহিনী আগুনের সঙ্গে লড়াই চালিয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নিচতলা, প্রথম এবং দ্বিতীয় তলার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে এখনও ধোঁয়া এবং আগুনের আঁচ বের হচ্ছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে পুরো ভবনটি এখনও সম্পূর্ণভাবে তল্লাশি করা যায়নি।

ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। পুলিশ একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের একবার দিল্লির গ্রীষ্মকালীন তাপদাহ এবং শহরের কারখানাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দমকল বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, কারখানাটি কোনো ফায়ার NOC (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ছাড়াই চলছিল বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।