কুমারগঞ্জে মর্মান্তিক ঘটনা, নিখোঁজ ছাত্রীর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ

তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুকুর থেকে উদ্ধার হলো পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর অর্ধনগ্ন দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের মোহনা গ্রাম পঞ্চায়েতের জহরাপুকুরে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল ১১ বছর বয়সী ওই নাবালিকা। পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার কুমারগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তিন দিন পর, সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে জহরাপুকুর থেকে তার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। দেহের উর্ধাঙ্গে কোনো পোশাক ছিল না এবং দেহে পচন ধরতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কুমারগঞ্জ থানার আইসি রামপ্রসাদ চাকলাদার সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কুমারগঞ্জ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই জঘন্য ঘটনায় সরব হয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে টুইট করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মন্ত্রীর প্রশ্ন, নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও কেন পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারল না?

যদিও কুমারগঞ্জ থানার আইসি রামপ্রসাদ চাকলাদার জানিয়েছেন, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।

এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে দিল।