“বিজেপি কর্মীদের মারার নিদান!”-উদয়ন গুহর বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha) ফের এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন। সম্প্রতি এক তৃণমূল নেতাকে গুলি করার ঘটনায় বিজেপিকে (BJP) ‘খেশারত দিতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর, এবার সরাসরি বিজেপি কর্মীদের ‘মারার নিদান’ দিলেন তিনি। কোচবিহারের সিতাইতে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক বক্তব্য সংবলিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
কী বলেছেন বিতর্কিত মন্ত্রী?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে উদয়ন গুহকে বলতে শোনা যায়, “একটা বিধানসভায় যদি বিজেপি কর্মীরা একজনও তৃণমূল কর্মী মার খায়, তাহলে আটটা বিধানসভায় আটজন বিজেপি কর্মীকে মারা উচিত। ওরা যে ঘটনা ঘটিয়েছে তার খেসারত দিতে হবে। তৃণমূল ছেড়ে কথা বলবে না।” শুধু তাই নয়, তিনি আরও দাবি করেন যে, তৃণমূল নেতার গুলি কাণ্ডে বিজেপি বিধায়কের পরিবারের সব সদস্যদের গ্রেফতার করা উচিত। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতা ও গ্রেফতারি:
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। কোচবিহার -২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজু দে (Raju Dey) ঝিনাইডাঙ্গা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই নেতা সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পরদিন, শুক্রবার, আহত তৃণমূল নেতার ভাই কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের (Sukumr Roy) ছেলে দীপঙ্কর রায় (Dipankar Roy), বিধায়কের গাড়িচালক উত্তম গুপ্তা (Uttam Gupta)-সহ বেশ কয়েকজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ বিধায়কের ছেলে ও গাড়িচালককে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে, বিধায়ক সুকুমার রায়ের একটি চারচাকা গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই চারচাকা গাড়ি ব্যবহার করেই গুলি চালানো হয়েছিল।
শুক্রবার দুপুরে গুলি কাণ্ডে ধৃত বিজেপি বিধায়কের ছেলে-সহ দুজনকে বিশেষ আদালতে তোলা হয়। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী শিবেন্দ্রনাথ রায় (Sibendranath Ray) জানান, “ধৃতদের জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজত দেওয়া হয়েছে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা:
উদয়ন গুহর এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীরা মন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘গণতন্ত্র-বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষত, আসন্ন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই ধরনের মন্তব্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বিষয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।