গোপাল খেমকা হত্যা, রাহুলের তীব্র আক্রমণ, ‘বিহারকে অপরাধের রাজধানী বানিয়েছে বিজেপি-নীতিশ জোট’

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিজেপি নেতা গোপাল খেমকাকে পটনায় তাঁর বাসভবনের বাইরে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বিজেপি এবং নীতিশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার একসঙ্গে বিহারকে ‘ভারতের অপরাধ রাজধানী’তে পরিণত করেছে।
রাহুল গান্ধী আরও জোর দিয়ে বলেছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং ‘রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য’ হবে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, হাজিপুরে দুষ্কৃতীদের হাতে গোপাল খেমকার ছেলেকে গুলি করে হত্যার সাত বছর পর, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ গান্ধি ময়দান এলাকায় খেমকার বাড়ির গেটের কাছেই আততায়ীর গুলিতে খেমকার মৃত্যু হয়।
নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, “পটনায় ব্যবসায়ী গোপাল খেমকার উপর গুলি চালানোর ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, বিজেপি এবং নীতিশ কুমার একসঙ্গে বিহারকে ভারতের অপরাধ রাজধানী করে তুলেছে।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “আজ, বিহার লুট, গুলি এবং খুনের ছায়ায় বাস করছে। অপরাধ এখানে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।” তিনি বিহারের ভাই ও বোনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিহারের ভাই ও বোনেরা এই অন্যায় আর সহ্য করবে না। যে সরকার আপনাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারে না, তারা আপনাদের ভবিষ্যতেরও দায়িত্ব নিতে পারে না।” প্রতিটি খুন, প্রতিটি লুট, প্রতিটি গুলির প্রতিশোধ হিসেবে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, “এখন একটি নতুন বিহারের সময় – যেখানে অগ্রগতি আছে, ভয় নয়। এবার ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বিহারকে বাঁচানোর জন্য।”
এদিকে, বিহারের ডিজিপি বিনয় কুমার জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী হত্যার তদন্তের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্সের আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় জেলা পুলিশের গোয়েন্দাদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। খুনের কারণ হিসেবে পুরনো শত্রুতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ডিজি। তিনি বলেন, “পুলিশ মামলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। খুনি এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে পুলিশের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তদন্ত চলছে।”
রাজ্য পুলিশের ডিজি আরও জানান, “খেমকার ছেলেকেও ২০১৮ সালে হাজিপুরে কিছু জমি বিরোধের মামলায় খুন করা হয়েছিল। তিনি (গোপাল খেমকা) আর কখনও নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করেননি। গতকালের ঘটনার পর, তাঁর অন্য এক ছেলেকে (যিনি পেশায় একজন ডাক্তার) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।”
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন এবং আধিকারিকদের দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এনডিএ সরকারের জন্য আইনের শাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অবহেলা হলে পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।” এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপানউতোরকে আরও তীব্র করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।