“সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে”-কসবাকাণ্ডে বিজেপিকে পাল্টা কটাক্ষ কল্যাণ ব্যানার্জির

কসবা আইন কলেজে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ কাণ্ডকে ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর চলছে, তখন এই ইস্যুতে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণে বিঁধলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ হুগলিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লিতে সর্বাধিক সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে তাঁরা নির্বাক।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে, বেশিরভাগই ঘটছে দিল্লিতে, প্রতিদিন গড়ে ৪টি ধর্ষণ দিল্লিতে ঘটে। নরেন্দ্র মোদী কী করেন, অমিত শাহ কী করেন? উত্তরপ্রদেশে প্রতিদিন ধর্ষণ হচ্ছে, প্রতিদিন গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। উত্তরপ্রদেশে ধর্ষণের পর ১০ দিন পর অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখানেই থামেননি। তিনি বলেন, “যদি নরেন্দ্র মোদী সিপিএমের আমলে এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) আসতেন, তাহলে আমি বুঝতে পারতাম। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী এখানে আসছেন যখন পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র রয়েছে। যখন পশ্চিমবঙ্গে কোনও গণতন্ত্র ছিল না, তখন নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গে এসে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস ছিল না।” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “ওরা সবাই সমৃদ্ধির দিনে আসছেন, কিন্তু মোদীজি বা যোগীজি যেই এখানে আসুক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া এখানে আর কিছুই নেই। আর ওরা এত বড় বড় কথা বলছে কিন্তু সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ কোথায় হচ্ছে?”
কসবা কাণ্ডের রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও তার নিজের দলের সদস্য মহুয়া মিত্র সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সিপিএমের দীপ্তিতা ধর এবং মহুয়া মিত্র তার বিরুদ্ধে একটি ‘চুক্তি’ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি শুনেছি দীপ্তিতা আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলছে। কথা বলুন ম্যাডাম। সে হেরে গেছে, তার জামিন বাজেয়াপ্ত হয়েছে, শরীরে নিশ্চয়ই একটা জ্বালাপোড়া আছে। কানাইপুরে যখন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, তখন তুমি কোথায় ছিলে?” চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীকেও আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আর পাপিয়া অধিকারী নামে একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আছে। সে বলেছে যে সে আমাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারবে। বলো তুমি আমাকে কোথায় মারবে? আমাকে কোথায় আসতে হবে?” তিনি অভিযোগ করেন, “এই লোকেরা কলকাতায় তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাড়িতে বসে বিদ্রোহ করে।”
কসবা আইন কলেজের ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যগুলি শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।