ফের বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণ! উড়ে গেল বাড়ি, চারিদিকে আগুন, কি ঘটেছিল কাটোয়ায়?

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামে ফের বোমা বাঁধার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। শুক্রবার রাতে ঘটনার জেরে একটি পরিত্যক্ত কাঁচাবাড়ি ধসে পড়ে, মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। আহত হয়েছেন তিনজন, তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
৪ জুলাই, রাত ৮:৩০ মিনিট। হঠাৎ পরপর দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা রাজুয়া গ্রাম। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। দেখা যায়, একটি পরিত্যক্ত মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে, আর সেখান থেকেই এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় বেরিয়ে আসছেন। তাঁকে ধরে ফেলে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। পুলিশে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী।
আহত ব্যক্তি তুফান চৌধুরী, রাজুয়ারই বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১২ দিন আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। বিস্ফোরণের পর তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও, ঘটনাস্থলে একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর পরিচয় জানা গেছে—তিনি বীরভূম জেলার নানুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ মৃতের বিস্তারিত পরিচয় ও বিস্ফোরণে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি বালিঘাট ও জমি দখল নিয়ে তুফানের সঙ্গে আরেক গোষ্ঠীর উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ, সেই সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবেই তুফান বাইরের লোক ডেকে এনে পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরি করাচ্ছিলেন। সেখানেই দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে বলে অনুমান।
এই ঘটনায় জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরক মজুদের বিষয়টি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের একাংশ বলছে, পুলিশ কীভাবে আগাম খবর পায়নি? গ্রামে এমন বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড চলছিল, অথচ প্রশাসনের নজরে আসেনি—এই প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ।
পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে, শুরু হয়েছে ফরেন্সিক তদন্ত। ধ্বংসস্তূপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তুফানের মোবাইল ফোন, যোগাযোগ সূত্র এবং গত কয়েকদিনের গতিবিধি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পর রাজুয়া গ্রামে চরম আতঙ্কের বাতাবরণ। কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। স্থানীয়দের একটাই আবেদন,“আমরা শুধু চাই, আমাদের গ্রামে আবার শান্তি ফিরে আসুক। নিরাপদে থাকতে চাই।”
ঘটনার জেরে টানা পাহারায় রয়েছে পুলিশ, তবে গ্রামবাসীরা চাইছেন আরও কড়া নজরদারি এবং পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর দ্রুত পরিদর্শন।এই বিস্ফোরণ শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং তা গ্রামাঞ্চলে বেড়ে চলা বেআইনি বিস্ফোরক চক্রেরই আরেকটি অন্ধকার দিক বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে।