বিশেষ: কবে থেকে শুরু হচ্ছে শ্রাবণ মাস? জেনেনিন সোমবারের ব্রত পালনের নিয়ম ও তিথি সম্পর্কে

হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস শ্রাবণ আসন্ন। এই পবিত্র মাসে মহাদেবের ভক্তরা শিবের পুজার্চনায় ব্রতী হন এবং তাঁর কৃপা লাভের জন্য বিভিন্ন উপাসনা করেন। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার শিবকে তুষ্ট করার জন্য ব্রত পালন করা হয়। অনেকে আবার ১৬ সোমবারের ব্রতও শুরু করেন শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার থেকেই। এই মাসটি শুধু শিবের জন্যই নয়, মাতা পার্বতীরও পুজোর জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

শ্রাবণ ২০২৫: তিথি ও আঞ্চলিক ভিন্নতা:

পঞ্জিকা অনুসারে, এবার শ্রাবণ মাস শুরু হচ্ছে ১১ জুলাই, ২০২৫ থেকে এবং শেষ হবে ৯ অগাস্ট, ২০২৫ রাখি পূর্ণিমার দিনে। অর্থাৎ, ৯ অগাস্টই পালিত হবে রাখি পূর্ণিমা উৎসব।

শ্রাবণ মাসের শুরুতে জলাভিষেকের জন্য শুভ মুহূর্ত রয়েছে ভোর ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে দুপুর পর্যন্ত। তবে শ্রাবণ মাস শুরু হওয়ার তিথি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু ভিন্নতা রয়েছে:

১১ জুলাই: রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, পঞ্জাব, ছত্তিশগড়, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে শ্রাবণ মাস শুরু হবে।

১৬ জুলাই: উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচলপ্রদেশে শ্রাবণ মাস শুরু হবে।

২৫ জুলাই: অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, গোয়া, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুতে শ্রাবণ মাস শুরু হবে।

শ্রাবণের পবিত্র সোমবারের তিথি:

শিব ভক্তদের জন্য শ্রাবণের সোমবারগুলি অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। এই বছর শ্রাবণের চারটি সোমবারের তিথিগুলি হল:

প্রথম শ্রাবণ সোমবার: ১৪ জুলাই, ২০২৫

দ্বিতীয় শ্রাবণ সোমবার: ২১ জুলাই, ২০২৫

তৃতীয় শ্রাবণ সোমবার: ২৮ জুলাই, ২০২৫

চতুর্থ শ্রাবণ সোমবার: ৪ অগাস্ট, ২০২৫

এই দিনগুলিতে মাতা পার্বতী এবং ভগবান শিবের জন্য ব্রত পালন করা হয়। ভক্তরা শিবলিঙ্গে জল, দুধ, বেলপাতা এবং গঙ্গাজল নিবেদন করে মহাদেবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

শ্রাবণের শুভ গ্রহযোগ:

এবারের শ্রাবণ মাস আরও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে কারণ এর শুরুতেই একাধিক গ্রহের চলন বদলাবে। সূর্য, মঙ্গল এবং শুক্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রহগুলি রাশি পরিবর্তন করবে। একইসঙ্গে বুধ এবং শনি বক্রী চলন করবে, যা জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও, শ্রাবণে শিব যোগ, প্রীতি যোগ এবং আয়ুষ্মান যোগের মতো শুভ যোগগুলি তৈরি হবে, যা এই মাসকে আরও ফলদায়ক করে তুলবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

শ্রাবণ মাসের পুজো পদ্ধতি:

শ্রাবণ মাসে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে শিবের মন্দিরে যাওয়া উচিত। যদি ঘরে ছোট শিবলিঙ্গ থাকে, তবে সেখানেই পুজো করা যায়। শিবলিঙ্গে জল এবং কাঁচা দুধ ঢালা হয়। এছাড়াও দই, মধু, ঘি এবং বিল্বপত্র নিবেদন করা শুভ। যারা প্রতিদিন অভিষেক করতে পারেন না, তারা শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে ভোলেবাবার মাথায় জল ঢেলে বিশেষ কৃপা লাভ করতে পারেন। ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করলে জীবনে শান্তি আসে এবং মন চঞ্চলতা থেকে মুক্তি পায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

এই শ্রাবণ মাস যেন সকলের জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনে, সেই কামনাই রইল।