পুরুষাঙ্গ উধাও! অস্ত্রোপাচারের পর জ্ঞান ফিরতেই হতবাক যুবক, কাঠগড়ায় হাসপাতাল

মাত্র ২৮ বছর বয়স। পুরুষাঙ্গে সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে শিলচরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন মণিপুরের জিরিবাম জেলার যুবক আতিকার রহমান। চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, সংক্রমণ গুরুতর—তাই বায়োপসি করানো দরকার। আতিকার তাতে সম্মত হন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরতেই তিনি জানতে পারেন—চিকিৎসক তাঁর গোটা পুরুষাঙ্গই কেটে বাদ দিয়েছেন!
ঘটনার পর হতভম্ব, ভেঙে পড়া আতিকার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বারস্থ হয়েছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে আতিকার বলেছেন,“১৯ জুন আমি সংক্রমণের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে যাই। চিকিৎসক বলেন বায়োপসি দরকার। অস্ত্রোপচারের পর যখন জ্ঞান ফেরে, দেখি গোটা পুরুষাঙ্গটাই নেই! অনুমতি তো দূরের কথা, আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।”
চিকিৎসকের কাছে বারবার প্রশ্ন করলেও কোনও পরিষ্কার উত্তর মেলেনি বলে দাবি তাঁর। এমনকি অভিযুক্ত চিকিৎসক এখন ফোনও ধরছেন না।
আতিকার জানান, অপারেশনের পর তাঁর জীবন সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে।“আমি জানি না এখন কীভাবে বাঁচব। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। শারীরিক ভাবেও নানা সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে লাভ হয়নি।”
প্রশ্ন উঠছে—একটি সাধারণ বায়োপসির সময়ে সম্পূর্ণ পুরুষাঙ্গ কেটে বাদ দেওয়া কি যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে পড়ে?যদি কোনও জটিলতা থাকত, তবে কি রোগীর লিখিত সম্মতি নেওয়া হয়নি?আর এত বড় পদক্ষেপের দায় হাসপাতাল এড়িয়ে যাচ্ছে কেন?এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। তাঁদের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
আতিকার ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে এই ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতালের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ঘিরে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমনে।
এই ঘটনা নিঃসন্দেহে এক ভয়াবহ চিকিৎসা-গাফিলতির উদাহরণ হয়ে উঠেছে। রোগী ও তাঁর পরিবারের দাবি, দোষীদের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক রোগী এমন অন্যায়ের শিকার হবেন।