“৪ বছরেও কেন গ্রেফতারি নয়?”-অভিজিৎ-মামলায় আদালতের প্রশ্নের মুখে সিবিআই

বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের ঘটনায় এবার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলার শুনানিতে বিচারক সিবিআইয়ের দীর্ঘসূত্রিতা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সম্প্রতি সিবিআই এই মামলায় একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে, যেখানে বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পাল এবং দুজন কাউন্সিলরের নাম রয়েছে। এদিন মামলার শুনানিকালে বিচারক সিবিআইয়ের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “চার বছরে কাউকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছেন? কাউকে গ্রেফতার করতে হবে, প্রয়োজন মনে করেছিলেন?”

এই প্রশ্নের জবাবে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আগে যে অফিসার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি কাউকে গ্রেফতারের প্রয়োজন মনে করেননি, কারণ অভিযুক্তরা তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন।

সিবিআইয়ের এই উত্তরে বিচারক অসন্তোষ প্রকাশ করে পাল্টা মন্তব্য করেন, “এটা কি মজা হচ্ছে? চার বছর পরে চার্জশিট দিয়েছেন। তার মানে এখনও ওয়ারেন্ট জারির প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন?” এরপর আদালত এই মামলায় সিবিআইকে চার্জশিটের কপির সাথে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট:

২০২১ সালের ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন কলকাতার কাঁকুরগাছির বাসিন্দা অভিজিৎ সরকারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। অভিজিৎ নিজেকে বিজেপি কর্মী হিসেবে দাবি করতেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁর দেহ উদ্ধারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। অভিজিতের পরিবার অভিযোগ করে যে তাঁকে রাজনৈতিক কারণে খুন করা হয়েছে।

এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে অভিজিতের দাদা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে। প্রথম থেকেই অভিজিৎকে খুনের ঘটনায় পরেশ পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ২০২১ সালের ২৫ অগাস্ট সিবিআই মামলা রুজু করে এবং কলকাতার নারকেলডাঙা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয় যে, ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরেই অভিজিতের মৃত্যু হয়েছে।

চার বছর ধরে চলা এই তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আদালতের এই ভর্ৎসনা নিঃসন্দেহে প্রশ্ন তুলেছে। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর।