TMC-র প্রকাশ্য সভায় কোন্দল! বিধায়ককে হুমকি দিলেন দলেরই মুখপাত্র

ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, যা দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মালদায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা চলাকালীন দলেরই এক মুখপাত্র প্রকাশ্যে এক প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ককে ‘থাবড়ে সোজা করে দেব’ বলে হুমকি দিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার মালদায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। রতুয়ার বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে জেলা তৃণমূল মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু প্রকাশ্যেই তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আশিস কুণ্ডু নিজের চেয়ার থেকে উঠে এসে আঙুল উঁচিয়ে সমর মুখোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। থাবড়ে সোজা করে দেব।”

এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্যে উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাও হতবাক হয়ে যান। ভরা সভায় একজন প্রবীণ বিধায়কের প্রতি এই ধরনের আচরণ দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে আশিস কুণ্ডুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় শুধু এটুকুই বলেন, “আমার কাছে দল বলতে একজনই নেত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর একজন নেতা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” এর বেশি তিনি কিছু বলতে চাননি।

তৃণমূলের সহ-সভাপতি শুভময় বসু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একজন প্রবীণ বিধায়ক, যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত শ্রদ্ধা করেন, তাঁকে প্রকাশ্যে এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।” তাঁর এই মন্তব্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, এই ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে আসরে নেমেছে বিজেপি। দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি কটাক্ষ করে বলেন, “এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি।” গেরুয়া শিবিরের দাবি, তৃণমূলের দলীয় সভাতেই নিজেদের নেতাদের এমনভাবে হুমকি দেওয়া হয়, যা তাদের দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার অভাবকেই তুলে ধরে।

তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা বিরোধীদের আরও বেশি করে আক্রমণের সুযোগ এনে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, দল এই ঘটনার বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আশিস কুণ্ডুর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কিনা। এই ঘটনা আসন্ন একুশে জুলাইয়ের সভার আগে দলের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।