গাজা শান্তি, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কি মিলবে সমাধান? হামাসের উত্তরের অপেক্ষায় ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। গাজায় অপহৃতদের মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির জন্য দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের ওপর হামাসের উত্তরের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইসরায়েল। এই কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছেন আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠীটিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে টাইমস অফ ইসরাইল জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের আগে, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আমেরিকার তীব্র চাপের মুখে রয়েছে।

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ও মতপার্থক্য
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ইসরায়েল এবং হামাস উভয় পক্ষই চুক্তির কিছু বিষয়ে নমনীয়তা দেখালেও, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার প্রশ্নেই মূল অচলাবস্থা রয়ে গেছে। ইসরায়েল চায় হামাসের বিরুদ্ধে আক্রমণ পুনরায় শুরু করার অধিকার ধরে রাখতে, অন্যদিকে হামাস ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এর আক্রমণের পর থেকে যুদ্ধ চিরতরে শেষ করার দাবি জানাচ্ছে।

এই মতপার্থক্য ঘোচাতে চ্যানেল ১২ নিউজ ট্রাম্পের সম্ভাব্য একটি বিবৃতির হিব্রু অনুবাদ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প “প্রতিশ্রুতি দেবেন যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরেও যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চলবে, এবং আমি পক্ষগুলোকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে সাহায্য করার জন্য আমার ক্ষমতার সবকিছু করব।”

‘উইটকফ কাঠামো’ এবং আমেরিকার ভূমিকা
বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বার্তা হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে: যদি তারা তথাকথিত **’উইটকফ কাঠামো’**তে সম্মত হয় — যেখানে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে দুই পর্বে ১০ জন জীবিত পণবন্দি এবং তিন পর্বে ১৮টি মৃতদেহ মুক্তি পাবে — তাহলে আমেরিকা সংঘাতের স্থায়ী অবসানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। টাইমস অফ ইসরাইল আরও জানিয়েছে যে, এই প্রস্তাবে মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে আশ্বাস রয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা চলাকালীন উভয় পক্ষ যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে না। তবে, ইসরায়েলি সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না করার কোনও প্রতিশ্রুতি এতে নেই।

হামাসের ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং ইসরায়েলের প্রত্যাশা
নেতানিয়াহুর সোমবারের হোয়াইট হাউস সফরের আগে, ইসরায়েল হামাসের আনুষ্ঠানিক জবাব নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে। হামাস আজ সকালে জানিয়েছে যে, তারা অন্যান্য প্যালেস্তাইনি গোষ্ঠীর সঙ্গে আমেরিকা সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে এবং আলোচনা শেষ হলেই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তাদের জবাব পেশ করবে। এই বিবৃতির আগে হামাস-সংযুক্ত সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল যে জঙ্গি গোষ্ঠীটি প্রস্তাবে “ইতিবাচক জবাব” দিয়েছে।

চ্যানেল ১৩ নিউজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, জেরুজালেম বিশ্বাস করে হামাস শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই প্রস্তাবের জবাব দেবে। ওই প্রবীণ কর্মকর্তা বলেন, “যদি একটি ইতিবাচক জবাব আসে, [আলোচনা] পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে পারে।” টাইমস অফ ইসরাইল উল্লেখ করেছে যে, প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইসরায়েল তার বন্দি প্যালেস্তাইনি নিরাপত্তা বন্দিদের মুক্তি এবং গাজায় মানবিক সাহায্য বৃদ্ধির বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি দেবে।

গাজার এই সংকটময় পরিস্থিতিতে, হামাসের জবাব এবং ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্যিই শান্তি আনতে পারবে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।