কসবা কাণ্ড, টিএমসিপি-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাজন্যা, ‘AI দিয়ে অশ্লীল ছবি ছড়ানোর’ অভিযোগ!

কসবা কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টিএমসিপি (TMCP) নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি গুরুতর অভিযোগ আনলেন একদা এই সংগঠনেরই নেত্রী, বর্তমানে সাসপেন্ডেড রাজন্যা হালদার। তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা তাঁর অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং এর পিছনে টিএমসিপি-রই কিছু ছাত্রনেতা জড়িত। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
সাসপেন্ডেড টিএমসিপি নেত্রী রাজন্যা হালদার বিস্ফোরকভাবে অভিযোগ করেছেন, “AI দিয়ে বানানো আমার অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “অশ্লীল ছবি ছড়ানো নিয়ে দলকে জানিয়েছি, দল বললে প্রশাসনকে জানাবো।” রাজন্যা সরাসরি আঙুল তুলেছেন টিএমসিপি-র ছাত্রনেতাদের দিকে। তাঁর কথায়, “টিএমসিপি-র ছাত্রনেতারাই পাঠাচ্ছে একে অপরকে।” এই ঘটনা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নৈতিকতার প্রশ্নকে আরও একবার সামনে এনে দিল।
শুধু তাই নয়, রাজন্যা হালদার আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “মনোজিৎ একজন নয়, আরও মনোজিৎ আছে তৃণমূলে।” এই মন্তব্য কসবা কাণ্ডের অভিযুক্ত মনোজিৎ মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে এনেছে, এবং এর দ্বারা তিনি দলের ভিতরে আরও এমন চরিত্রদের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। রাজন্যার এই অভিযোগের পর তৃণমূল কংগ্রেস এবং টিএমসিপি নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ডাক্তার শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল: রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা
কলকাতা, ৪ঠা জুলাই, ২০২৫: রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের (State Medical Council) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। গতকালই কাউন্সিল শান্তনু সেনের চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন দুই বছরের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলার অনুমতি চেয়েছেন শান্তনু সেন, এবং বিচারপতি অমৃতা সিন্হা তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ডাঃ শান্তনু সেনের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আজ বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, “আমাকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, সংবাদমাধ্যম থেকে রেজিস্ট্রেশন বাতিলের খবর জেনেছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কাউন্সিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে যে বৈঠক ডেকেছিল, সেখানে তাঁর দেওয়া জবাব বা ব্যাখ্যাকে নাকি ‘বিবেচনাতেই আনা হয়নি’।
শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে না জানিয়ে ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কাউন্সিল। তবে, শান্তনু সেনের দাবি, ২০১৯ সালে গ্লাসগো থেকে তিনি যে সাম্মানিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, সেটিও কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে বিবেচনা করা হয়নি।
এই মামলা এখন আদালতের চৌকাঠে, এবং এর ফল কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে শান্তনু সেনের চিকিৎসাজীবনের ভবিষ্যৎ। আদালতের সিদ্ধান্ত এই ধরনের বিতর্কে আগামী দিনে মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনারদের পেশাগত আচরণ এবং কাউন্সিলের ক্ষমতার ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।