উত্থান-পতনের দোলাচল পেরিয়ে ভারতীয় শেয়ার বাজার, সপ্তাহের শেষে ঘুরে দাঁড়াল সূচক

দিনের শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ভারতীয় শেয়ার বাজার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের চাপ সত্ত্বেও শুক্রবার (৪ঠা জুলাই) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে বন্ধ হলো প্রধান সূচকগুলি। সেনসেক্স ও নিফটির এই ইতিবাচক সমাপ্তি কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে লগ্নিকারীদের মনে, যদিও পুরো সপ্তাহে সূচকগুলির মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিন বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ১৯৩.৪২ পয়েন্ট বা ০.২৩% বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩,৪৩২.৮৯ পয়েন্টে থমকেছে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫৫.৭০ পয়েন্ট বা ০.২২% বেড়ে ২৫,৪৬১.০০ পয়েন্টে এসে শেষ করেছে। অর্থাৎ, দু’টি প্রধান সূচকই ‘গ্রিন জোন’-এ (Stock Market Today) থেকে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। তবে, গোটা সপ্তাহের পরিসংখ্যানে সেনসেক্স এবং নিফটি যথাক্রমে ০.৪% এবং ০.৭% হ্রাস পেয়েছে (Indian Stock Market)।
ক্ষেত্রের সূচকগুলির ভিন্ন চিত্র:
এনএসই-র তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নিফটি এফএমসিজি, নিফটি আইটি, নিফটি মিডিয়া, নিফটি ফার্মা, নিফটি পিএসইউ ব্যাংক, নিফটি রিয়্যালিটি, নিফটি অয়েল এবং গ্যাস খাতগুলি সর্বোচ্চ লাভ করেছে। অন্যদিকে, নিফটি মেটাল এবং নিফটি অটো খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।
বাজারের চালিকা শক্তি:
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের গবেষণা প্রধানের মতে, “আসন্ন মার্কিন শুল্কের সময়সীমার (৯ই জুলাই) আগে বিনিয়োগকারীরা ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি গ্রহণ করছেন, যার ফলে ভারতীয় বাজারে এক ধরনের স্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, চলমান এফআইআই (বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী)-এর পুঁজি প্রত্যাহার ঝুঁকি-বিমুখ মনোভাবকে প্রতিফলিত করছে, যদিও ডিআইআই (ঘরোয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী)-এর বিনিয়োগ আংশিকভাবে বাজারকে সমর্থন জুগিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্কের সম্প্রসারণ এবং ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অনিশ্চয়তা চলতি সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ার সূচকগুলিকে প্রভাবিত করেছে। তবে, ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের তীব্রতা কমা এবং ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার পদক্ষেপ এবং ভালো বর্ষার পূর্বাভাসও আর্থিক বাজারকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
বর্তমানে মার্কিন বাজারগুলি সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ডলার ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ ভারতের মতো উদীয়মান বাজারগুলি উপকৃত হচ্ছে। এছাড়া, ভারতে আরামদায়ক মুদ্রাস্ফীতির হার আরেকটি ইতিবাচক দিক।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালে সেনসেক্স এবং নিফটি প্রায় ৯-১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে, এই দুই সূচক ১৬-১৭% লাভ করেছিল, যেখানে ২০২২ সালে তাদের বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩%। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতীয় শেয়ার বাজার তার স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করেছে।