বিশেষ: বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ভারত, জেনেনিন এই ক্ষেপণাস্ত্রের কী কী ক্ষমতা?

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫ (Agni-V)-এর একটি নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী সংস্করণ তৈরি করছে। এই নতুন সংস্করণটি মাটির ৮০ থেকে ১০০ মিটার গভীরে গিয়ে কংক্রিটের আস্তরণ ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সাড়ে সাত হাজার কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করে নিয়ে যেতে পারবে।

অগ্নি-৫ এর দুইটি সংস্করণ: বহুমুখী সামরিক শক্তি
ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি ভিন্ন সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে:

১. বাঙ্কার বাস্টার সংস্করণ: একটি সংস্করণ আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে সাড়ে সাত হাজার কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক নিয়ে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ হিসেবে কাজ করবে। এটি সুপারসনিক গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হবে।

২. পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী সংস্করণ: অন্য সংস্করণটি পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম হবে।

সম্প্রতি, ইরান পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের নতুন অগ্নি-৫-ও যুক্তরাষ্ট্রের এই জিবিইউ-৫৭-এর মতোই শক্তিশালী হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব
বাঙ্কার বাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র হলো এক বিশেষ ধরনের যুদ্ধাস্ত্র, যা মাটির গভীরে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে। সামরিক বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র রাখার জায়গা এবং অস্ত্রাগার— এই ধরনের সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। সাধারণ বোমা বা যুদ্ধাস্ত্র মাটির ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়, কিন্তু বাঙ্কার বাস্টার মাটির গভীরে প্রবেশ করে কংক্রিটের স্তর ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য অপরিহার্য।

সামরিক বিশ্লেষকদের অভিমত
ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফট্যানেন্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই নতুন অগ্নি-৫ ভারতের জন্য একটি ‘ডেটারেন্ট’ (Deterrent) হিসেবে কাজ করবে। তাঁর মতে, যেকোনো দেশের ‘মাসল পাওয়ার’ বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজন হয় এবং ভারতের সামরিক বাহিনীর জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “এই অস্ত্র মাটির গভীরে চলে যেতে পারে। কয়েকটি পর্যায়ে এর বিস্ফোরণ হয়। প্রথমে ওপরে হয়, তারপর ভেতরে ঢুকে বারবার তা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এটি নির্দিষ্ট একটি কোণে রাখতে পারলে টার্গেটে সবচেয়ে ভয়ংকর আঘাত করতে পারে। তাই এই অ্যাঙ্গেল বা কোণটা খুবই জরুরি।”

উৎপল ভট্টাচার্য এও উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন বাঙ্কার বাস্টার দেখার পর ভারতের এই প্রয়াস নিয়ে আলোচনা হলেও, ভারত অনেক আগেই এই অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আধুনিক যুদ্ধে বাঙ্কার বাস্টার অত্যন্ত জরুরি বলে বিবেচিত হয়, কারণ বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্র, অস্ত্রাগার, জ্বালানি, রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের ভান্ডার সাধারণত মাটির নিচে সুরক্ষিত থাকে। এগুলোতে আঘাত হানতে হলে বাঙ্কার বাস্টারের মতো বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র অপরিহার্য। সেখানেই এর সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম।