বিড়লা মিউজিয়ামে এবার ‘এডুটেইনমেন্ট’, থ্রিডি অভিজ্ঞতা, সমুদ্রের গভীর থেকে মহাশূন্যে নতুন দিগন্ত

বইয়ের পাতায় পড়া বিজ্ঞান এবার বাস্তবের হাতছানি নিয়ে চোখের সামনে ধরা দেবে। সমুদ্রের গভীরে রঙিন মাছদের খেলা থেকে শুরু করে সৌরজগতের গ্রহ-নক্ষত্রের মাঝে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি— এমনই এক অসাধারণ ‘এডুটেইনমেন্ট’ (Edutainment) বিভাগ চালু করতে চলেছে বালিগঞ্জের বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম (BITM)। নবম শ্রেণি থেকে শুরু করে কলেজ স্তরের পড়ুয়ারা বিনোদনের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল বিষয়গুলো সরাসরি অনুভব করতে পারবে এই থ্রিডি অডিও-ভিডিও বিভাগের মাধ্যমে। এটি দেশের মধ্যে কলকাতাতেই প্রথম এমন উদ্যোগ।
‘এডুটেইনমেন্ট’: শিক্ষা ও বিনোদনের মেলবন্ধন:
বিআইটিএম মূলত নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে হাতে-কলমে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু নতুন ‘এডুটেইনমেন্ট’ বিভাগটি নবম শ্রেণি থেকে কলেজ স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। অধিকর্তা অর্ণব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই থ্রিডি সেকশন তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। ‘বিনোদনের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা’র এই থ্রিডি সেকশন বিআইটিএম-এর ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে কলকাতাতেই প্রথম।
মহাকাশ থেকে সমুদ্রের তলদেশ: নতুনত্বের ছোঁয়া:
বিআইটিএম মানেই পুরনো রেলগাড়ি, কয়লাখনি বা মহাকাশের রহস্যভেদের বাস্তব গল্প। এতদিন মৌলিক পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান, সৌরজগৎ, বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পাঠ্যক্রমিক ধারণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও সামাজিক বিষয়গুলিতে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হতো। এবার সেই পরিধি আরও বাড়ছে।
অর্ণব চট্টোপাধ্যায় জানান, “আমরা এখানে সারা বছর ধরে বিভিন্ন ইন্টার-অ্যাক্টিভ মডেল, প্রদর্শনী, শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং কার্যকলাপের মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলা ও প্রচারের কাজে নিয়োজিত থাকি। এবার সেই পরিসর আরও বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজাইন করা হচ্ছে নতুন সেকশন। যেখানে সমুদ্রের গভীর থেকে সৌরজগৎ নিয়ে পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়বে। থ্রিডি ভিডিওর মাধ্যমে তারা অনুভব করতে পারবে সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছলে কেমন অনুভূতি হয়, কিংবা সৌরজগতে পৌঁছলে ঠিক কী হতে পারে! এর ফলে তাদের যেমন বিজ্ঞানের প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয় বুঝতে সুবিধা হবে, তেমনই সেই সব বিষয়ে তাদের আগ্রহও বাড়বে। এতদিন নবম-দশম কিংবা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয় হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ ছিল না। এবার সেই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।”
থ্রিডি অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা:
এই ‘এডুটেইনমেন্ট’ সেকশনকে অর্ণব চট্টোপাধ্যায় অনেকটা “থ্রিডি মাধ্যমের রোলার কোস্টারের মতো অনুভূতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও তাঁদের মূল লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়, বরং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অডিও, ভিডিও সহ একটি ‘ইমার্সিভ সেকশন’ তৈরি করা।
শুধু তাই নয়, বিআইটিএম-এর গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা থ্রিডি হেডসেটের নতুন মডেল তৈরির চেষ্টা করছেন। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন থ্রিডি সেকশনে ব্যবহৃত হেডসেট একজন ব্যবহার করলে অন্যজন তা ব্যবহারে অনীহা দেখান। এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টাও চলছে বলে অধিকর্তা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মে বিআইটিএম-এ ‘লস্ট অ্যাট সি’ শীর্ষক একটি নতুন গ্যালারি খোলা হয়েছে। এই গ্যালারিতে প্রবেশ করলে দর্শকরা সমুদ্রের তলদেশের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন এবং সামুদ্রিক প্রাণীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার অনুভূতি পাবেন। কিউআর কোড স্ক্যান করে পছন্দের মাছে রং করে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে, যা আপনার চারপাশে ঘুরে বেড়াবে। এই গ্যালারিতে পৃথিবীর বিরলতম সামুদ্রিক প্রাণী ‘ভ্যাকুইটা’-র কঙ্কালসহ ১৪টি সামুদ্রিক প্রজাতি এবং সাম্প্রতিককালে আবিষ্কৃত নতুন সামুদ্রিক প্রজাতিগুলিও তুলে ধরা হয়েছে। বিআইটিএম-এর এই নতুন উদ্যোগগুলি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও বাস্তবমুখী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।