OMG! গৃহকর্ত্রী ও তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে খুন পরিচারকের, হত্যার কারণ জানলে হবেন অবাক?

দিল্লির লাজপত নগরের এক অভিজাত ফ্ল্যাটে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হলো ওই বাড়িরই চার বছর ধরে কর্মরত পরিচারক। বুধবার সন্ধ্যায় ৪২ বছর বয়সী গৃহকর্ত্রী রুচিকা ও তার ১৪ বছরের ছেলে কৃষকে নৃশংসভাবে খুন করে অভিযুক্ত মুকেশ পাশওয়ান (২৪)। ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাই থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেরায় মুকেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে এবং খুনের পেছনের ‘কারণ’ হিসেবে গৃহকর্ত্রীর মানসিক নির্যাতন ও ছুটি না দেওয়াকে উল্লেখ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় রুচিকার স্বামী কুলদীপ যখন বাড়িতে ছিলেন না, তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। কুলদীপ বাড়ি ফিরে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। স্ত্রী বা ছেলেকে ফোনেও না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। তিনি দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখেন, দুটি ভিন্ন ঘরে পড়ে রয়েছে মা ও ছেলের রক্তাক্ত দেহ। রুচিকার দেহ পাওয়া যায় বেডরুমে, আর কৃষের দেহ ওয়াশরুম থেকে উদ্ধার হয়। দুজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীরা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান এবং থানায় খুনের মামলা রুজু হয়।

পরিচারকের স্বীকারোক্তি: ক্ষোভের আগুন থেকে খুন?

পুলিশের ব্যাপক তল্লাশির পর অবশেষে উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলির মুঘলসরাই থেকে মুকেশকে গ্রেফতার করা হয়। সে ট্রেনে করে পালানোর পরিকল্পনা করছিল। মুঘলসরাই থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশকে মুকেশ জানিয়েছে, সে গত চার বছর ধরে ওই বাড়িতে কাজ করত। ওই পরিবারের একটি কাপড়ের দোকান ছিল, যেখানেও তাকে যেতে হতো। তার অভিযোগ, গৃহকর্ত্রী রুচিকা তার উপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন। তাকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হতো এবং একই কাজ বারবার করতে বলা হতো। মুকেশ আরও দাবি করেছে যে, সে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি এবং তাকে দিয়ে সমস্ত কাজ করানো হতো। বারবার ছুটি চেয়েও না পাওয়ায় রুচিকার সঙ্গে তার মনোমালিন্য শুরু হয় এবং মাঝে মাঝেই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত।

মুকেশের দাবি অনুযায়ী, বুধবার এই রাগের বশেই সে প্রথমে রুচিকা এবং তারপর কৃষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। খুনের পর সে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

যদিও অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছে এবং একটি ‘কারণ’ দর্শিয়েছে, পুলিশ এটি নিছকই প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্ত সাপেক্ষ। এই নৃশংস ঘটনাটি দিল্লির লাজপত নগর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।