বকেয়া ২৫% DA না দেওয়ায় বড় প্রশ্নের মুখে রাজ্য? উঠল ২৬০০০ চাকরি বাতিলের কথা

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বিতর্কে ফের চরমে উঠল টানাপোড়েন। পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, তা ছিল ২৭ জুন পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ মেটানো তো দূরের কথা, বরং সেই দিনই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় সময়সীমা বাড়ানোর। এরই প্রেক্ষিতে এবার আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করলেন সরকারি কর্মীরা।
‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর তরফে আদালত অবমাননার মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই মামলায় কর্মচারীদের পক্ষে লড়ছেন। মামলাকারীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে যে ৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে অমান্য করেছে রাজ্য সরকার। নির্ধারিত সময় পার হলেও একটিও বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি, যা সরাসরি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন।
রাজ্য সরকারের যুক্তি, ডিএ কোনও আবশ্যিক বিষয় নয়। এটি নির্ভর করে রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতির উপর। সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় জানানো হয়েছে, যদি এআইসিপিআই (All India CPI)-এর ভিত্তিতে ডিএ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে তা নিয়োগকর্তা তথা রাজ্য সরকারের স্বাধীন সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ হবে। পাশাপাশি, রাজ্য আরও বলেছে যে পে কমিশনের সুপারিশও বাধ্যতামূলক নয়।
হলফনামায় আরও জানানো হয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকার মেনে নিচ্ছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক কর্মচারীর বকেয়া একবারে মেটানো সম্ভব নয়। রাজ্যের দাবি, এটি একটি বিরাট আর্থিক বোঝা। সেই কারণেই অন্তত ছয় মাস সময় চাওয়া হয়েছে ডিএ মেটানোর জন্য।
সরকারি কর্মীদের প্রশ্ন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যে ২৬ হাজার অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল হয়েছে, তাদের কাছ থেকে কেন বেতন ফেরত নেওয়া হচ্ছে না? সেই অর্থ আদায় করলেও তো রাজ্যের আর্থিক সংকট খানিকটা কমত। এই পদক্ষেপ না নেওয়াকেও এক ধরনের আদালত অবমাননা বলেই মনে করছেন তাঁরা।
ডিএ সংক্রান্ত মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। প্রথমে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল (স্যাট), পরে কলকাতা হাইকোর্ট এবং অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে এই মামলা। স্যাটে প্রথমে জয় পায় রাজ্য সরকার, তবে পরবর্তী প্রতিটি ধাপে জয় পান কর্মচারীরা। তবু এখনো পর্যন্ত তাঁরা প্রাপ্য অর্থ হাতে পাননি।
বকেয়া ডিএ-র দাবিতে বহুদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াই এখন আদালত অবমাননার পথে। রাজ্য সরকারের আর্থিক যুক্তি আর কর্মীদের ন্যায্য পাওনার দাবির সংঘাতে ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এবার নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।