OMG! গার্ডরেল তুলে পুলিশের সামনেই গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের হাতে ধৃত ৭ দুষ্কৃতী

প্রকাশ্য দিবালোকে, ট্র্যাফিক পুলিশের চোখের সামনেই এক ব্যক্তির গাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালালো একদল উন্মত্ত যুবক। জীবন বাঁচাতে গাড়ি নিয়ে রাজারহাট চৌমাথায় ট্র্যাফিক পুলিশের কিয়স্কের সামনে আশ্রয় নিলেও রক্ষা মেলেনি। বাঁশ, ইট, এমনকি রাস্তা থেকে লোহার গার্ডরেল তুলে গাড়ির উইন্ড স্ক্রিনে ছুড়ে মারা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হামলাকারীদের তাণ্ডবে পথচারী তো বটেই, এমনকি কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশরাও যেন কুঁকড়ে গিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনা রাজারহাটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এই বর্বরোচিত হামলার সূত্রপাত হয় গত সোমবার সন্ধ্যায়। নিউ টাউনের সিটি সেন্টার-২ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা পুনিত কুমার গাড়ি নিয়ে রাজারহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ২১১ রোডের জগারডাঙা মসজিদের কাছে একটি মোটরবাইকের সঙ্গে তার গাড়ির ধাক্কা লাগে। মোটরবাইকে থাকা তিন যুবক পুনিতের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু করে এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে গাড়ির ছবি তুলে রাখে।

এরপর মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ পুনিত যখন ওই একই রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে ফিরছিলেন, তখন ৮-১০ জন যুবক তার পথ আটকায় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে পুনিতের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ধেয়ে আসতে শুরু করে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে পুনিত দ্রুত গাড়ি নিয়ে এগোতে থাকেন, আর বাইকে পিছু ধাওয়া করে যুবকের দল।

রাজারহাট চৌমাথায় তখন নাকা চেকিং চলছিল, যার পাশেই রয়েছে ট্র্যাফিক পুলিশের কিয়স্ক। পুনিত দ্রুত সেখানে গাড়ি নিয়ে পৌঁছান এবং পুলিশের কাছে জীবন ভিক্ষা চান। কিন্তু ততক্ষণে প্রায় ৫০-৬০ জন যুবক ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং পুনিতকে মারধর শুরু করে। পুলিশ কোনোমতে পুনিতকে উদ্ধার করে কিয়স্কের ভিতরে নিয়ে গেলেও, তার গাড়ির উপর ভাঙচুর রোধ করা যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজারহাট থানা থেকে দ্রুত বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশকে দেখে বেশ কিছু যুবক পালিয়ে গেলেও, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত শেখ আনিশ, আশিক আলি, শেখ আফ্রিদি এবং আমিরুল হাসান ধুকড়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রত্যেকের বাড়ি জগারডাঙায় এবং তাদের বয়স ১৮ থেকে ২২-এর মধ্যে। ধৃতদের বুধবার বারাসত মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় রাজারহাটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রকাশ্য রাস্তায়, পুলিশের উপস্থিতিতে এমন হামলার ঘটনা নাগরিক সুরক্ষার বিষয়টিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।