“কৃষি নিয়ে নিজেদের শর্তে অনড় ভারত”-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প-মোদীর ‘ট্রেড ডিল’-এর সম্ভাবনা!

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রতীক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। বাণিজ্য আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা উভয় দেশের পারস্পরিক শুল্ক আরোপে নিষেধাজ্ঞার মার্কিন সময়সীমা ৯ জুলাইয়ের আগেই সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে, কৃষিক্ষেত্র এবং দুগ্ধজাত পণ্যে শুল্ক আরোপের বিষয়ে ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে, যা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখায় প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েকদিন ধরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি জারি হলেও, সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আলোচনা এখন একবারে শেষ পর্যায়ে। দ্রুত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় বাণিজ্য দল গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন পৌঁছেছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ৯ জুলাইয়ের সময়সীমার আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর উভয়পক্ষের ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে।
এই চুক্তিতে উভয়পক্ষই বেশ কিছু বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। ওয়াশিংটন দাবি করছে যে ভারত তার বাজার জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (GM) ফসলের জন্য খুলে দিক, যা নয়াদিল্লি দীর্ঘকাল ধরে ‘রেড লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছে। ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি মানা হলে দেশের কৃষিখাতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় কৃষি ও দুগ্ধ খাতের বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের জন্যও চাপ দিচ্ছে, যাতে এই খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত আমেরিকান পণ্যগুলি ভারতের বাজার পেতে পারে। তবে, সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে গ্রামীণ জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই দুটি খাতই প্রস্তাবিত চুক্তির আওতা থেকে দূরে রাখা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আমেরিকার এই দাবিতে একেবারেই রাজি নয়।
এর বিপরীতে, ভারত জুতো, পোশাক এবং চামড়া শিল্পের পণ্যগুলিতে শুল্ক ছাড়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, যা ভারতের শ্রম-ঘন শিল্পগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, ভারত কিছু আমেরিকান কৃষি পণ্যের উপর যে ১০০% শুল্ক আরোপ করে, তা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের যুক্তি, এটি বন্ধ হলে ভারতীয় কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এবং তাদের পণ্যের সঠিক দাম পাবেন না, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিক্ষেত্রে ভারতের অনড় অবস্থান এবং শ্রম-ঘন শিল্পগুলিতে ভারতের প্রবেশাধিকারের দাবি, এই দুটি বিষয়ই চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখায় বড় ভূমিকা পালন করবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, যখন বিশ্ব এই চুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।