২১ জুলাই TMC-র শহিদ দিবসে পাল্টা আন্দোলনে BJP, বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু

শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন আগামী ২১শে জুলাই ধর্মতলায় তাদের ঐতিহ্যবাহী শহিদ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই দিনই শিলিগুড়িতে ‘উত্তরকন্যা অভিযান’-এর ডাক দিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল বিজেপি। বুধবার কসবার এক প্রতিবাদ সভা থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

কসবা গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টে মামলা করে সভার অনুমতি আদায় করে বিজেপির যুব মোর্চা। সেই সভা থেকেই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। বৃষ্টির মধ্যেই সভা করে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বৃষ্টি তো দূরের কথা, এই সরকারকে সরাতে গুলি খেতেও রাজি আছি। আমাদের লড়াই চলবে।”

৯ই আগস্ট ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক?
আলাদাভাবে, আগামী ৯ই আগস্ট আরজি করে তরুণী চিকিৎসক খুন-ধর্ষণের এক বছর পূর্ণ হবে। এই দিনটিকে ঘিরেও বিজেপির একটি বৃহত্তর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দেখা করে তাকে ওই দিন পতাকা বিহীন ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দেওয়ার অনুরোধ করবেন। তার কথায়, “আমি তাঁকে বলব, ওই দিন পতাকা ছাড়া নবান্ন অভিযানের ডাক দিন। নবান্ন অভিযানে মমতার সরকারের পতন ঘটানোর ডাক থাকবে।”

২১শে জুলাইয়ের রাজনৈতিক রণনীতি:
একুশে জুলাই তৃণমূলের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে বিজেপির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। দলের একাংশ মনে করতেন, একই দিনে কর্মসূচি নিলে তা যথেষ্ট প্রচার পাবে না। তবে অন্য অংশের যুক্তি ছিল, একটি বড় কর্মসূচি আয়োজন করলে অন্তত তৃণমূলের কর্মসূচির টিভি কভারেজে ভাগ বসানো যাবে। শেষ পর্যন্ত, দক্ষিণবঙ্গের পরিবর্তে উত্তরবঙ্গেই ২১শে জুলাইয়ের পাল্টা কর্মসূচি চূড়ান্ত করল বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী কসবার সভায় জানান, “আজ রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দলের সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) অমিতাভ চক্রবর্তীকে বুঝিয়ে উত্তরকন্যা কর্মসূচি চূড়ান্ত করে এসেছি।”

মহিলা কমিশনের সামনে বিক্ষোভ:
একই দিনে কসবার ঘটনায় রাজ্যের মহিলা কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সল্টলেকে রাজ্য মহিলা কমিশনের অফিসের সামনে হ্যারিকেন হাতে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, মহিলা কমিশন এই জঘন্য ঘটনায় কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। যদিও কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার কথা জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সুয়োমোটো কেস শুরু করেছি। সে দিনই নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা রিপোর্ট তৈরি করে সরকারকে পরামর্শ পাঠিয়ে দিয়েছি এবং পুলিশের কাছ থেকেও রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।”

এই পরিস্থিতিতে আগামী ২১শে জুলাই এবং ৯ই আগস্ট রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।