বছর ঘুরতেই বৈষম্যবিরোধীদের আবার আন্দোলন, জেনেনিন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কী ?

গত বছর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এক বছর পূর্ণ হল সেই ঐতিহাসিক কোটা বিরোধী আন্দোলনের। গত জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার মাসব্যাপী ‘জুলাই স্মৃতি উদযাপন অনুষ্ঠানমালা’ ঘোষণা করেছে। তবে এই উদযাপনের মাঝেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের রাজপথ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পটিয়া।
বুধবার সকাল থেকে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূরের অপসারণের দাবিতে ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাইপাস অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত:
মঙ্গলবার রাতে পটিয়া থানা-পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর দে-কে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তবে ওসি দীপঙ্করের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৯ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে পুলিশ বলছে, আন্দোলনকারীরা ‘মব’ সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার পটিয়া থানা ঘেরাওয়ের ডাক দেয় সংগঠনটি।
অবরোধ এবং ভোগান্তি:
সকাল ৯টা থেকেই থানা ঘেরাও শুরু হলেও পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। তাদের একমাত্র দাবি ছিল ওসি আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূরের অপসারণ। এই অবরোধের ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যার কারণে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে আন্দোলনকারীরা পরীক্ষার্থী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের অনুমতি দেয়। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওসি জায়েদ নূরের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। প্রাথমিকভাবে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও পরে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ওসির অপসারণ:
আন্দোলনের তীব্রতা দেখে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আন্দোলনের চাপেই তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা আবারও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এল। ড. ইউনূস সরকারের বর্ষপূর্তির উদযাপন যখন চলছে, ঠিক তখনই নতুন করে জন্ম নেওয়া এই বিক্ষোভ ভবিষ্যতে কী মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।