পাক তারকাদের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠল? সোশ্যাল মিডিয়ায় খুলছে একের পর এক অ্যাকাউন্ট?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পরপরই ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এবং সে দেশের তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা। তবে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এখন দেখা যাচ্ছে যে, নিষিদ্ধ হওয়া সেই পাকিস্তানি সংবাদ চ্যানেল ও তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ফের অ্যাক্সেস করা যাচ্ছে। তাহলে কি ভারতের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল? এই বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফের দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানি তারকাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট:
বুধবার (২ জুলাই) পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ফিল্ম ও টিভি তারকার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ হয়েছে। এই তারকাদের মধ্যে রয়েছেন সাবা কামার এবং হানিয়া আমির। পহেলগাঁও হামলার পরপরই ভারত সরকার এই তারকাদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিয়েছিল। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টই নয়, একাধিক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এবং বিনোদন চ্যানেলের ইউটিউব প্ল্যাটফর্মও ব্লক করা হয়েছিল, যা এখন আবার দেখা যাচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীনও অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী VPN (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) ব্যবহার করে তাঁদের প্রিয় পাকিস্তানি সেলিব্রিটিদের অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির, যিনি সম্প্রতি দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সর্দারজি-৩’ ছবিতে অভিনয়ের কারণে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ভারত-পাক সম্পর্কে নতুন মোড়:
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপরই ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে “বদলা” নেয়। এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং এই প্রথম পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। ভারতের এই প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অনুরোধ মেনে ভারত যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে, যা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনে এক নতুন মোড় এনেছিল।
এখন প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ফের চালু হওয়ার বিষয়টি কি ভারত-পাক সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত, নাকি এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত কোনো পরিবর্তন? আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছে দুই দেশের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মহল।