“যৌনতা-ধর্ষণ-মদের মজলিস চলত গার্ডরুমে”-কলেজে ‘দাদা’র বিনোদনের দায়িত্বে থাকত ‘অনুগামীরা’

কসবা আইন কলেজের সেই কুখ্যাত গার্ডরুম। বাইরে থেকে আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ দেখালেও, ভেতরে চলতো এক ভয়ঙ্কর ‘রাজত্ব’। মনোজিৎ মিশ্র, যার পরিচিতি ‘ম্যাঙ্গো দাদা’ হিসেবে, সেই গার্ডরুমকেই বানিয়েছিল তার ‘মস্তানি’র আখড়া। অভিযোগ উঠেছে, সেখানেই চলতো মদ্যপানের আসর, গানের মজলিস, আর এসবের আড়ালেই চলতো ছাত্রীদের উপর পাশবিক নির্যাতন।
কলেজ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনোজিৎ মিশ্রের এই অপকর্মে জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের মতো শাগরেদরা সক্রিয় ভূমিকা রাখতো। মনোজিতের মনোরঞ্জনের জন্য তারা গানের আসর বসাতো, আর সেই সাথে জুড়তো মদ্যপানের আয়োজন। জানা গেছে, প্রতিটি আসরের আগেই মনোজিৎ কোনো না কোনো ছাত্রীকে ‘টার্গেট’ করে রাখতো। দাদার এক ইশারাতেই সেই ‘টার্গেট’-কে গার্ডরুমে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতো এই শাগরেদরা। মদ আনার দায়িত্বও পড়তো ‘দাদার অনুগামী’দের উপর।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ‘দাদার অনুগামী’দের দলে শুধুমাত্র ছাত্ররাই নয়, জুনিয়র ছাত্রীরাও ছিল। নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তারাই মনোজিতের জন্য ‘টার্গেট ফিক্স’ করতো। মনোজিতের কথা না শুনলে এই ছাত্রীরাই নাকি তরুণীদের চুলের মুঠি ধরে মারধর, শাসানোর মতো কাজ করতো।
কলেজ ক্যাম্পাসে হুমকি, ধমক, মারধর, এমনকি প্রতিবাদীদের বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতো নিয়মিত। মেয়েদের প্রতি অশালীন মন্তব্য এবং আক্রমণ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই সমস্ত কিছুর নেপথ্যে ছিল ম্যাঙ্গো দাদার আস্থাভাজন শাগরেদরা, যারা ছিল তার আজ্ঞাবহ দাস। কলেজের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে এই ‘থ্রেট কালচার’ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা জরুরি বলেই মনে করছেন পড়ুয়ারা।
এদিকে, পুলিশের তল্লাশিতে সেই গার্ডরুম থেকে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ। নির্যাতিতা তার বয়ানে যে শারীরিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন, ক্রাইম সিন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণ তারই দিকে ইঙ্গিত করছে। গার্ডরুমে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘর থেকে পাওয়া চাদরেও দাগ পাওয়া গেছে, যার ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি বীর্যের দাগ বলেই অনুমান করা হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীর ঘরের অস্থায়ী বিছানা এবং সংলগ্ন শৌচাগার থেকে পাওয়া রক্তের দাগও তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে। এছাড়াও, ঘটনাস্থল থেকে ভাঙা মদের বোতলও উদ্ধার হয়েছে।
এই ঘটনা কসবা আইন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি এবং দোষীদের শাস্তির দাবি উঠেছে সব মহল থেকে।