বিশেষ: সারা বছরে কতগুলো ডিভোর্স হয় ভারতে? জেনেনিন কি বলছে নতুন সমীক্ষা রিপোর্ট

সম্পর্ক যখন আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, তখনই আসে বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ। তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার ভেঙে দেওয়া কারোই কাম্য নয়। একটি সম্পর্ক সফল করতে প্রয়োজন উভয় পক্ষের কাছাকাছি বা সমান প্রচেষ্টা। অন্যথায়, একজনের পক্ষে সম্পর্কের বোঝা টেনে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাস্তবতার কঠিন মুখে বাধ্য হয়েই অনেক সময় এই বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশ্বের কমবেশি সব দেশেই বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এর হারে রয়েছে বিস্ময়কর তারতম্য।
ওয়ার্ল্ড অফ স্ট্যাটিস্টিক্স (World of Statistics)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের এমন কিছু দেশ আছে যেখানে ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বিবাহই ভেঙে যায়, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। কিন্তু এই চিত্র যখন বিশ্বজুড়ে, তখন ভারত এক ব্যতিক্রমী ছবি তুলে ধরে। এই বিশাল দেশে মাত্র ১ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে থাকে, যা বিশ্ব মানচিত্রে ভারতকে এক ভিন্ন অবস্থানে স্থাপন করেছে।
ইউরোপ-আমেরিকা বনাম এশিয়া: ডিভোর্সের হারে বিস্তর ফারাক
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলোর তুলনায় এশিয়ার দেশগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। উদাহরণস্বরূপ:
- জার্মানি: ৩৮ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদ।
- ব্রিটেন: ৪১ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদ।
- আমেরিকা: ৪৫ শতাংশ মানুষই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙেন।
এই তথ্যগুলো পশ্চিমা সমাজে সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং দ্রুত বিচ্ছেদের প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তোলে। এর বিপরীতে, এশিয়ার দেশগুলিতে পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতার ঐতিহ্য বিচ্ছেদের হারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন সমাজতাত্ত্বিকরা।
বিশ্বের সর্বনিম্ন ডিভোর্সের দেশগুলি এবং ব্যতিক্রমী পর্তুগাল
ওয়ার্ল্ড অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর যে ১০টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- মিশর
- দক্ষিণ আফ্রিকা
- ব্রাজিল
- তুরস্ক
- কলম্বিয়া
আশ্চর্যজনকভাবে, চীন, স্পেন, তুরস্কের মতো কিছু ধনী দেশে সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রে অবস্থা খুবই খারাপ। উন্নত অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার মানও সেখানে বিবাহবিচ্ছেদের উচ্চ হারকে আটকাতে পারেনি।
অন্যদিকে, সম্পর্ক ভাঙার নিরিখে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পর্তুগাল। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে দেশে ৩৪ শতাংশ মানুষই ডিভোর্সের পথ বেছে নিয়েছেন, যা ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বেশ উচ্চ।
ভারতের ১ শতাংশ রহস্য: সামাজিক প্রেক্ষাপটই কি মূল কারণ?
ভারতের এই সর্বনিম্ন ১ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদের হার বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে ভারতের শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন, যৌথ পরিবারের প্রথা, বিবাহকে একটি সামাজিক এবং পবিত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা, এবং আপোসের মানসিকতা বড় ভূমিকা পালন করে। বিচ্ছেদকে এখনও সমাজে কিছুটা নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, যা মানুষকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে উৎসাহিত করে। তবে, এই ১ শতাংশের সংখ্যাটি কি পুরোপুরি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, নাকি অনেক সম্পর্ক সামাজিক চাপে অগোচরেই টিকে থাকে—সেই প্রশ্নও উঠে আসে।
বিশ্বজুড়ে যখন সম্পর্কের বাঁধন আলগা হচ্ছে, তখন ভারতের এই পরিসংখ্যান এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এটি কি কেবল সামাজিক চাপ, নাকি সম্পর্কের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও সহনশীলতার প্রতীক? এই প্রশ্নগুলি আধুনিক সমাজে সম্পর্ক এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।