“কন্যা বাঁচাও, মমতা হটাও”-তৃণমূলের মহিলারাও সুরক্ষিত নন, দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও নারী হত্যার ঘটনায় ফের সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, “গত ৪-৫ বছর ধরে নারী নির্যাতনের ঘটনা তৃণমূলের প্রশ্রয়েই বাড়ছে। বগটুই, কাটোয়া, মুর্শিদাবাদ থেকে কসবা—এই সরকার আইন-শৃঙ্খলাকে তুচ্ছ করেছে।”

তমলুকের ময়না বাজারে ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’য় অংশ নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, আরজি কর, কালীগঞ্জ, কসবা—একের পর এক ঘটনা প্রমাণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নারী নিরাপত্তায় ব্যর্থ। সংখ্যালঘু তোষণের নামে আইনের শাসনকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই রাজ্যে কোনও নারী—দিদি, মা, কন্যা—নিরাপদ নন। এমনকী তৃণমূলের মহিলারাও জেহাদি-ধর্ষকদের হাত থেকে মুক্ত নন।”

শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাংলার লজ্জা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “পুলিশ মানে তৃণমূল। সব জায়গায় তৃণমূলের দাপট। মমতাকে সরালেই সব ঠিক হয়ে যাবে।” তিনি ‘কন্যা বাঁচাও, মমতা হটাও’ স্লোগান তুলে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। কসবা আইন কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়েও তিনি আগে মমতার পদত্যাগ চেয়েছিলেন, এবার তমলুকের সভা থেকে সেই দাবি ফের তুললেন।

প্রসঙ্গত, কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে মিছিলের জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন হলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

শুভেন্দুর এই বক্তব্যে রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়েছে। তৃণমূল এখনও এই অভিযোগের প্রত্যুত্তর দেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কসবা কাণ্ড সহ রাজ্যের নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে আদালতের রায় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে গোটা বাংলার।