OMG! ফ্ল্যাটের ভেতরে বাবা-মা ও ছেলের রহস্যমৃত্যু, দেহ উদ্ধারে ছড়ালো চাঞ্চল্য

হাওড়ার জগাছা থানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মঙ্গলবার একটি বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। বাবা, মা ও ছেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা, তবে কেন এই চরম পথ বেছে নিলেন তাঁরা, তা জানতে শুরু হয়েছে নিবিড় তদন্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগাছার একটি অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। সকাল থেকে সাড়া না মেলায় প্রতিবেশীরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জগাছা থানার পুলিশ। দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতেই শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য দেখেন পুলিশ কর্মীরা। দুটি ঘর থেকে তিনজনের দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতরা হলেন বলরাম খাঁ (৬৬), তাঁর স্ত্রী শেলি খাঁ (৫৪) এবং তাঁদের ছেলে সমব্রিত খাঁ (৩২)। সকলের মুখ দিয়েই গ্যাঁজলা বেরিয়েছিল, যা থেকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁরা বিষ খেয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে শেলির বোন দিদির ফ্ল্যাটে যান। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতার দিদি জানান, “প্রতিদিনই ফোনে কথা হত। এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা আমরা কখনও ভাবতেই পারিনি।” তাঁর এই কথা ঘটনার আকস্মিকতা ও অস্বাভাবিকত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মৃত বলরাম খাঁ পেশায় জীবনবিমার এজেন্ট ছিলেন, স্ত্রী শেলি খাঁ কাজ করতেন পোস্ট অফিসে, এবং ছেলে সমব্রিত খাঁ অনলাইনে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা এই পরিবারের এমন পরিণতি স্থানীয়দের স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা, সামাজিক সম্পর্ক এবং কোনো বিশেষ সমস্যার অস্তিত্ব ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের উপর ঋণ সংক্রান্ত কোনো চাপ ছিল কিনা, সেই বিষয়টিও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক মুহূর্তেই একটি পরিবারের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি – এই ঘটনা হাওড়ার জগাছা এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য এবং বিষাদের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক জীবনে আর্থিক চাপ এবং মানসিক অবসাদ কিভাবে এক পরিবারকে এমন চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই রহস্যের পর্দা উন্মোচনের অপেক্ষায় পুলিশ ও স্থানীয় মানুষ।