“২০০ বছর বাঁচতে পারে মানুষ”-শেফালি জরিওয়ালার মৃত্যুর পর যা বললেন বাবা রামদেব

বলিউড অভিনেত্রী শেফালি জ়রিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত এই তারকার পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট রক্তচাপ দ্রুত কমে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাককে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেও, কেন এই রক্তচাপের পতন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আর এই বিতর্কের আবহে বার্ধক্য প্রতিরোধক ওষুধের ব্যবহার এবং মানুষের গড় আয়ু নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যোগগুরু রামদেব বাবা, যা চিন্তার নতুন খোরাক জুগিয়েছে।
গত ২৮শে জুন শনিবার মুম্বইতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী শেফালি জ়রিওয়ালা। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হচ্ছে, রক্তচাপের আকস্মিক পতন থেকেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কেন এমন ঘটল? রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে, শেফালির দেহে ‘গ্লুটাথিয়ন’ নামে এক রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে, যা সাধারণত বার্ধক্য প্রতিরোধী (অ্যান্টি-এজিং) ওষুধের মধ্যে পাওয়া যায়। পুলিশের তল্লাশিতে শেফালির বাড়ি থেকেও বার্ধক্য প্রতিরোধকারী ওষুধের দুটি বাক্স উদ্ধার হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ওষুধের প্রভাবেই কি হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেল, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হলো? অমরত্বের আকাঙ্ক্ষায় কি মানুষ নিজের অজান্তেই ডেকে আনছে বিপদ?
শেফালির মৃত্যুর এই চাঞ্চল্যকর আবহে, যোগগুরু রামদেব বাবা সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানবদেহের গড় আয়ু নিয়ে এক চমকে দেওয়া দাবি করেছেন। তাঁর মতে, “মানুষের স্বাভাবিক গড় আয়ু ১০০ বছর নয়, বরং কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ বছর।” তাঁর এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আমরা কেন এই দীর্ঘ জীবন পাচ্ছি না? রামদেবের ব্যাখ্যা, মানুষ নিজের মস্তিষ্ক, চোখ, পাকস্থলীর উপর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে। তিনি আরও দাবি করেন, “যে খাবার ১০০ বছরে একজন মানুষের খাওয়া উচিত, সেই খাবারই মাত্র ২৫ বছরে খেয়ে নেয় মানুষ।” অর্থাৎ, আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ভুলই এই আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।
রামদেব নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমার বয়স ৬০ বছর। কিন্তু কেবলমাত্র সঠিক খাবার আর সুশৃঙ্খল জীবনধারনের জন্যই আমি সুস্থ এবং প্রাণবন্ত রয়েছি।” তাঁর মতে, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে ১০০ বছরেও বার্ধক্য মানুষকে ছুঁতে পারবে না। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বাইরের সৌন্দর্যের চেয়ে ভেতরের সুস্থতাই আসল শক্তি।
অভিনেত্রী শেফালি জ়রিওয়ালার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “হার্ডওয়্যার ভালো থাকলেও, সমস্যাটা ‘সফটওয়্যার’-এ ছিল।” অর্থাৎ, কেবল শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা নয়, মানসিক এবং আত্মিকভাবেও সবল থাকা জরুরি। তাঁর মতে, প্রকৃত সুস্থ থাকার অর্থ ভিতর থেকেও সবল থাকা। সুস্থ থাকার জন্য তাই নিজের জীবনে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকতে হবে। খাদ্যাভ্যাস, আচার ব্যবহার—সবকিছুর উপরেই সুস্থ থাকা নির্ভরশীল।
শেফালির মৃত্যু, অ্যান্টি-এজিং ওষুধের ব্যবহার এবং রামদেবের এই দাবি—সব মিলিয়ে আমাদের সামনে এক গভীর প্রশ্ন তুলে ধরছে: আমরা কি দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন পাওয়ার জন্য ভুল পথে হাঁটছি? নাকি সত্যটা আমাদের জীবনযাপন আর আত্ম-নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে? উত্তর খুঁজছে সমাজ, আর সময়ের গর্ভে লুকিয়ে থাকা রহস্য হয়তো একদিন উন্মোচিত হবে।