“মনোজিৎছাত্রীদের জোর করে নিয়ে যেত মন্দারমণির বিচে”-অভিযোগ অগ্নিমিত্রা পালের

কসবা আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “অভিযুক্ত মনোজিৎ তৃণমূলের পৃষ্ঠপোষকতায় কলেজে ‘দাদা’ হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করত। তার নির্দেশ অমান্য করলে ছাত্রীদের জোর করে মন্দারমণির সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হতো।”

অগ্নিমিত্রা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক অশোকদেবের প্রশ্রয়েই মনোজিৎ ও তার সহযোগীদের কলেজে ঢোকানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “গত ২৫ জুলাইয়ের নৃশংস ঘটনার পরও অশোকদেব বিষয়টি এড়িয়ে যান। এক ভাইস-প্রিন্সিপাল ঘটনার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘সোমবার দেখব।’ এমন অমানবিক মনোভাব কি একজন বিধায়কের পক্ষে শোভনীয়?”

“ছাত্র পরিষদের নামে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য”

বিজেপি নেত্রী দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে ছাত্র পরিষদের নামে বাইরের দুষ্কৃতীদের এনে ছাত্রীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। “ইউনিয়ন রুম, সিকিউরিটি রুমে এমন ঘটনা দিনের পর দিন চলছে। এই দুষ্কৃতীদের না রুখলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না,” বলেন তিনি।

অনুব্রত মণ্ডলকে নিশানা

অগ্নিমিত্রা বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম উল্লেখ করে বলেন, “মহিলাদের সম্মানের কথা বলতে গেলে তৃণমূলকে আগে কেষ্টর মতো নেতাদের গ্রেফতার করতে হত। কিন্তু তারা শুধু নাটক করে।” তিনি সিউড়ির এক পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, মহিলাদের সম্মান ফিরিয়ে দিন।”

রাজনৈতিক তরজা

এই ঘটনা ও অগ্নিমিত্রার বক্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল এখনও এই অভিযোগের জবাব দেয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে। কসবা আইন কলেজের ঘটনা নিয়ে আদালতের রায় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।