জলপাইগুড়িতে নাবালিকা ধর্ষণ, পকসো আদালতে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, নির্যাতিতাকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালত। সোমবার এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক রিন্টু সুর, যা অপরাধীদের প্রতি এক কড়া বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালত অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে, যা অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের সহকারী সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দত্ত জানান, ২০২৩ সালের ২৯ মে ভক্তিনগর থানায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতার মা। তার অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের ২৭ মে তার নাবালিকা মেয়ে টিউশন পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। মেয়ের খোঁজ শুরু করার পর ২৯ মে একটি ফোন আসে, যেখানে জানানো হয় যে তার মেয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে রয়েছে। সেই মতো স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।

মেয়েটির মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ভক্তিনগর থানার পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, এক ব্যক্তি ওই নাবালিকার বাড়ির পাশেই রাজমিস্ত্রির কাজ করত। সেই ব্যক্তিই নাবালিকাকে অপহরণ করে নিজের এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর অভিযুক্ত মেয়েটিকে সেই পরিত্যক্ত গোডাউনে ফেলে দিয়ে যায়।

পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট জমা দেয়। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ন’জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সমস্ত প্রমাণ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সোমবার জলপাইগুড়ির পকসো আদালত অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

আইনজীবী দেবাশিস দত্ত আরও জানান, আদালত তার রায়ে নির্যাতিতা নাবালিকাকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা ডিস্ট্রিক্ট লিগাল সার্ভিস অথরিটি প্রদান করবে, যা নির্যাতিতার ভবিষ্যৎ জীবনে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। এই রায় প্রমাণ করে দিল যে, নারী ও শিশুদের প্রতি সংঘটিত অপরাধে বিচারব্যবস্থা কতটা কঠোর হতে পারে, এবং দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালত বদ্ধপরিকর।