বিশেষ: যোগ্য নেতা হতে চান? তাহলে মেনে চলুন সেরা নেতা হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম?

বেশিরভাগ সময়েই সঠিক কাজটি করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। অনেক সময়েই সঠিক কাজটি করার জন্য নিজের ওপর কঠোর হওয়ার প্রয়োজন হয়। একজন যোগ্য নেতার এই গুণটি থাকা আবশ্যিক।
সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমাদের নিজেদের ব্যক্তিত্ব, অবস্থা, আচরন ইত্যাদির দিকে বাস্তব দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। অনেক সময়েই আমরা তা করার বদলে সহজ রাস্তা খুঁজি। বাস্তব পরিস্থিতির থেকে চোখ ফিরিয়ে আমরা নিজেদের নানান কথা বলে বোঝাতে চাই। কিন্তু কখনও কখনও কঠিন সিদ্ধান্তটিই আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত। জীবনে সফল হতে চাইলে মাঝে মাঝে নিজের ওপর কঠোর হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। অনেক কিছু থেকে নিজেকে জোর করে দূরে রাখতে হয়। আবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেক কিছু করতে হয়।
ধরা যাক, সামনে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোনও পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ আছে। যার জন্য আপনাকে কয়েক দিন গভীর ভাবে পড়াশুনা করতে হবে। কিন্তু সেই একই সময়ে বিশ্বকাপ চলায় আপনার পড়ায় মন বসাতে দারুন কষ্ট হচ্ছে। আপনি করলেন কি, নিজের আনন্দ আর উত্তেজনাকে প্রশ্রয় দিলেন। জরুরী কাজ বাদ দিয়ে খেলা দেখতে বসে গেলেন, যাতে সত্যিকার অর্থে আপনার কোনওই উপকার হবে না।৯০ মিনিট খেলা দেখায় আপাতদৃষ্টিতে হয়তো তেমন একটা ক্ষতি হয় না। কিন্তু খেলার উত্তেজনা ও রাত জাগা মিলিয়ে এতে আপনার মস্তিষ্কে যথেষ্ঠ চাপ পড়ে, যাতে আপনার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়। আপনি পড়াশুনায় যতটা মনযোগ দিতে পারতেন ততটা দিতে না পারার কারনে আপনার পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ ততটা ভালো হল না।
এটা গেল একটা উদাহরন। আমরা নিজের আবেগকে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে এমন ভুল সব সময়েই করি। এই ভুল গুলো হয় শুধুমাত্র নিজের ওপর কঠোর হতে না পারার কারনে। অতিরিক্ত খাওয়া, ঘুম, বিনোদন ইত্যাদি আমাদের শরীর ও ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর জেনেও আমরা নিজেদের শাসনে রাখতে পারি না।
ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে পেশাগত জীবনেও আমরা এমন বহু কঠিন অথচ সঠিক সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে যাই শুধুমাত্র নিজের প্রতি কঠোর না হতে পারার কারনে। বাস্তবতাকে এড়িয়ে কোনও কাজ বা লক্ষ্যেই পূর্ণ সাফল্য পাওয়া যায় না।
আপনাকে তাই সব সময়ে নিজের প্রতি সৎ ও কঠোর হতে হবে। বাস্তবতার নিরিখে কাজ করতে হবে। বাস্তবকে পরিস্কার ভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, এবং অপ্রিয় হলেও সত্যকে স্বীকার করতে হবে।
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া:
আপনি যখন কোনও ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন, আপনাকে প্রায়ই অন্যদের সাথে কঠোর আচরণ করতে হবে।কিন্তু অনেক সময়েই অনেকে এটা পেরে ওঠেন না ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনও কারনে। এক্ষেত্রে দায়িত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত আবেগ বেশি প্রশ্রয় পায়। এসব ক্ষেত্রে অন্যের ওপর কঠোর হওয়ার আগে নিজের ওপর কঠোর হওয়াটা জরুরী।